খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার বীমা বাজারে নতুন গতির সঞ্চার করছেন পিটি গ্রেট ইস্টার্ন লাইফ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর নিনা ওং। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে কোম্পানিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে বীমা খাতের সনাতনী ও ধীরগতির প্রক্রিয়াগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করার মাধ্যমে গ্রাহক সেবাকে কয়েক সপ্তাহ থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে মাত্র কয়েক মিনিটে। নিনা ওংয়ের এই উদ্ভাবনী কৌশল কেবল কোম্পানির দক্ষতা বাড়ায়নি, বরং দীর্ঘমেয়াদী আয়ের ভিতকেও শক্তিশালী করেছে।
বীমা ব্যবসায় সাধারণত গ্রুপ ইন্স্যুরেন্সের কোটেশন, আন্ডাররাইটিং এবং দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াগুলো বেশ সময়সাপেক্ষ হয়। নিনা ওংয়ের হাত ধরে গ্রেট ইস্টার্ন লাইফ এই চিত্র বদলে দিয়েছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াগুলোকে ‘নিয়ার রিয়েল-টাইম’ বা তাৎক্ষণিক রূপ দান করেছে। কোম্পানিটি তাদের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট কোটেশন সিস্টেম’ এবং ‘কর্পোরেট ক্লায়েন্ট পোর্টাল’ এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যার ফলে গ্রাহক ও ব্রোকাররা এখন সরাসরি তাদের পলিসি এবং দাবির সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।
ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে অর্জিত সাফল্যসমূহ
| সেবার ক্ষেত্র | পূর্বের অবস্থা | বর্তমান অবস্থা (AI প্রয়োগের পর) |
| কোটেশন ও আন্ডাররাইটিং | কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত | কয়েক মিনিটে সম্পন্ন হচ্ছে |
| বীমা দাবি (Claims) | ম্যানুয়াল ও ধীরগতির | স্বয়ংক্রিয় ও তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণযোগ্য |
| গ্রাহক দৃশ্যমানতা | সীমিত ও অস্বচ্ছ | রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সুবিধা |
| কাজের পদ্ধতি | কায়িক ও কাগজনির্ভর | সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও সাশ্রয়ী |
নিনা ওং বিশ্বাস করেন যে, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হলো নেতৃত্বে বৈচিত্র্য। গ্রেট ইস্টার্ন লাইফ ইন্দোনেশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি নারী। নিনা ওংয়ের মতে, এই বৈচিত্র্য প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী করে। নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে, যা সরাসরি কোম্পানির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। তাঁর মতে, বৈচিত্র্যময় দল থাকলে যেকোনো বিষয়ে গঠনমূলক বিতর্ক ও বিশ্লেষণ বেশি হয়, যা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
নিনা ওংয়ের পেশাদার জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে হংকং এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজারগুলোতে। হংকংয়ের কঠোর রেগুলেটরি পরিবেশ এবং বড় পরিসরের অপারেশনাল কাজ তাঁকে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণে দক্ষ করে তুলেছে। তাঁর কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণই ছিল মুখ্য, কিন্তু এখন তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধিতেই প্রকৃত সাফল্য খুঁজে পান। তাঁর লক্ষ্য হলো এমন একটি উচ্চ-কার্যক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিজেই তৈরি করতে সক্ষম হবে।
প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ নারী নেতাদের ধরে রাখতে নিনা ওং নমনীয় কর্মপরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেন। তবে তাঁর কাছে নমনীয়তা মানে কেবল কাজ থেকে ছাড় নয়, বরং ফলাফলের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। তিনি মনে করেন, শারীরিক উপস্থিতির চেয়ে লক্ষ্য অর্জন এবং কাজের মানই একজন নেতার আসল পরিচয়। যখন উচ্চপদে থাকা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের আস্থা ও ক্ষমতায়ন অনুভব করেন, তখন তাদের কর্মস্পৃহা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
গ্রেট ইস্টার্ন লাইফ ইন্দোনেশিয়া এখন কেবল একটি বীমা কোম্পানি নয়, বরং নিনা ওংয়ের নেতৃত্বে এটি একটি প্রযুক্তি-বান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরও ব্যাপক প্রয়োগ এবং কার্যকর নেতৃত্বের মাধ্যমে কোম্পানিটি বাজারে তাদের আধিপত্য বজায় রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।