খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
শীতের সকাল হোক বা সন্ধ্যার হালকা ঠাণ্ডা, অনেক মানুষের দিন শুরু হয় এক কাপ গরম চা দিয়ে। চা কেবল স্বাদ ও উষ্ণতা দেয় না, এটি ক্লান্তি কমাতে, মেজাজ ভালো রাখতে এবং মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চা পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ইনস্টিটিউট অব লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সেস (আইএলবিএস)-এর পরিচালক এবং লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. শিবকুমার সারিন সম্প্রতি বলেছেন, “খালি পেটে চা পান করা মানুষের হজমতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।”
ডা. সারিন ব্যাখ্যা করেন, ঘুম থেকে ওঠার পর গ্যাস্ট্রো-কোলিক রিফ্লেক্স সক্রিয় হয়। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা খাবার বা পানীয় গ্রহণের পর কোলনে সংকোচন ঘটায় এবং মলত্যাগের তাগিদ সৃষ্টি করে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ মলত্যাগ অনুভব করে।
ডা. সারিন আরও বলেন, খালি পেটে চা পান করলে চায়ের ট্যানিন এবং ক্যাফেইন পাকস্থলীর আস্তরণে ক্ষতি করতে পারে। এতে গ্যাস, বুকজ্বালা, বদহজম এবং এসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া ক্যাফেইন শরীরে এসিড উৎপাদন বাড়িয়ে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের শোষণ কমিয়ে রক্তাল্পতার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি যকৃতের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ডা. সারিন পরামর্শ দেন, চায়ের ওপর নির্ভর না করে সকালের রুটিনে অন্ত্র স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার রাখার জন্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। যেমন:
গরম পানি পান
হালকা ব্যায়াম
ফলমূল বা ফাইবারযুক্ত খাবার
| প্রভাব | কারণ | সম্ভাব্য সমস্যা |
|---|---|---|
| পাকস্থলীর জ্বালা | চায়ের ট্যানিন | বুকজ্বালা, গ্যাস, বদহজম |
| এসিড বৃদ্ধি | চায়ের ক্যাফেইন | এসিড রিফ্লাক্স, হজম সমস্যা |
| খনিজ শোষণ কমে যাওয়া | আয়রন ও ক্যালসিয়াম শোষণ ব্যাহত | রক্তাল্পতা |
| যকৃতের স্বাস্থ্য | দীর্ঘমেয়াদি হজমজনিত চাপ | লিভার সমস্যা |
| ঘুমের ব্যাঘাত | ক্যাফেইন | অল্প ঘুম, বিশ্রামের অভাব |
ডা. সারিনের মতে, চায়ের প্রতি আসক্তি নয়, বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ। সকালের চা যেন স্বাস্থ্যের বন্ধু হয়, এ জন্য খাবারের পরে বা হালকা নাস্তার সঙ্গে চা পান করা উচিত।
অতএব, ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা খাওয়ার আগে অন্ত্র ও হজমতন্ত্রকে সচল করার জন্য কিছু প্রাকৃতিক রুটিন অবলম্বন করা নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর।