খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের হামজারবাগ এলাকায় দিনদুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলি চালানোর ঘটনায় নগরজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয়ের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে নির্মাণাধীন একটি ভবনে সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েন। শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ত্রধারীরা কাজ চলমান ভবনে প্রবেশের পর কয়েক মিনিট ধরে গুলি চালানোর পর ব্যস্ত সড়ক পার হয়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, ভবন মালিক মিজান ও জসিমের কাছে বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর নাম করে প্রায় ৮০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ে এ ধরনের প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়। ঘটনার পর হামজারবাগ এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই এলাকার আমির হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম নামের আরও দুই ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাদের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, “সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা এখনো ভয়ের কারণে থানায় মামলা করেননি। তবে তাদের সহযোগিতা নিয়ে আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে। জড়িতরা বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারী।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এখনও সক্রিয়। বাহিনীর অন্তত অর্ধশত সদস্য খুন, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগকালে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনিসহ আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই সন্ত্রাসী সারোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন। ওই ঘটনায় বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যসংক্ষেপ টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা | সন্ত্রাসীরা নির্মাণাধীন ভবনে গুলি চালায় |
| স্থান | মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়ক, হামজারবাগ, চট্টগ্রাম |
| সময় | রবিবার, দিনদুপুর |
| আহত/মৃত | কেউ আহত বা নিহত হয়নি |
| পুলিশ পদক্ষেপ | সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ, জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেফতারের অভিযান |
| সন্ত্রাসী ব্যাকগ্রাউন্ড | সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি |
| সামাজিক প্রভাব | স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক, নির্মাণকাজ স্থগিত, ভাইরাল ভিডিও |
| অতীত ঘটনায় প্রভাব | ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ নির্বাচনী এলাকায় গুলিবর্ষণ, ৫জন আহত, ১ নিহত |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নগরজুড়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। পুলিশের সতর্ক পদক্ষেপ ও দ্রুত অভিযান ছাড়া সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা সিসি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার মূল আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।