খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 15শে চৈত্র ১৪৩১ | ২৯ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ভারতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ময়মনসিংহ থেকে এক তরুণীকে সাতক্ষীরায় এনে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিকবার (২৭ মার্চ) তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ১৬ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে তাকে কয়েক দফায় ধর্ষণ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মেহেদি হাসান ওরফে সবুজ (২৪), তার ভাই সাকিব হোসেন (২০) ও মো. গোলাম রসুল ওরফে রাকিব (২১)। তাদের সবার বাড়ি কালীগঞ্জের কাঠুনিয়া গ্রামে।
সাতক্ষীরার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী তরুণী জানান, তার বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায়। তিনি পেশায় একজন মডেল ও পার্লারের রূপবিশেষজ্ঞ। কয়েক মাস কোনো কাজ না থাকায় তিনি বাড়িতে ছিলেন। এ সময় ফেসবুকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কাঠুনিয়া গ্রামের গোলাম রসুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে গোলাম রসুল তাকে ভারতে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে ২২ মার্চ তিনি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে আসেন।
ওই দিন সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে মেহেদি হাসান ও গোলাম রসুল তাকে মেহেদির বাড়িতে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখান থেকে তাকে কদমতলা গ্রামের আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অচেতন করে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন তাকে শ্যামনগর উপজেলার কুলতলী গ্রামে আরেকটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুনরায় ধর্ষণের শিকার হন। পরে ফের তাকে মেহেদির বাড়িতে আনা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভোরে তিনি সুযোগ পেয়ে নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। এরপর দুপুরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল রশিদ মোল্যা জানান, ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে থানায় মামলা করেছেন। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী তরুণী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
খবরওয়ালা/জেআর