খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১০১ কোটি ৪৯ লাখ মার্কিন ডলার বা ১০ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক অর্থ। দেশীয় মুদ্রায় এটি এক লাখ ২৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে)।
রেমিট্যান্স আহরণের এই পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.৫৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৯৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বেশি। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল—জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসী আয় দেশে আসায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরেছে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির কারণে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসীরা ২৬৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (২.৬৮ বিলিয়ন) দেশে পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। আগস্টে প্রবাসী আয় ছিল ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ২৯ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা, আর জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪৮ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩১ কোটি টাকা।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ এক অর্থবছরে দেশে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও ডলারের জোগানে স্বস্তি তৈরি করেছে।