খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
কুমিল্লায় ‘ছাত্রলীগ’ পরিচয়ে গ্রেপ্তার হওয়া অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ইমরান হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) শুরু হওয়া তার বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ইমরান নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তারের পর থেকেই সে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছে।
গত সোমবার গভীর রাতে পুলিশ চিওড়া গ্রামের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ইসহাক মিয়ার ছেলে ইমরানকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়। পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
পুলিশ জানায়, এসআই আলমগীর হোসেন পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ২৫ জনের নামসহ ৫০–৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সেখানে ইমরান ৬ নম্বর আসামি। এজাহারে তাকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়নের মনতলী ব্রিজ এলাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের ৫০–৬০ জন নেতাকর্মী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রতিবাদে সরকারবিরোধী স্লোগান, ঝটিকা মিছিল ও মশাল মিছিল করেন। পুলিশ সেখানে গিয়ে ১ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যে ইমরানসহ অন্যদের নাম পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
তবে ইমরানের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তার বাবা ইসহাক মিয়া জানান, তাদের পরিবার কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ পুলিশ ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়ে থানায় গেলেও কোনো সহায়তা পাননি। আদালতও জামিন দেননি। তার অভিযোগ, কোনো প্রমাণ ছাড়াই ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন মজুমদার বলেন, ইমরান নিয়মিত ছাত্র এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি ইমরানের মুক্তি দাবি করেন।
ইমরান ছাত্রলীগের কার্যক্রমে জড়িত কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাঙ্গলকোট থানার ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, তাদের কাছে ইমরানের এমন কোনো ছবি বা ভিডিও নেই। তবে ওই রাতে গ্রেপ্তার হওয়া আরও পাঁচজনের তথ্যে ইমরানের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তারা বলেছে, ইমরান নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং ঝটিকা মিছিলে অংশ নিয়েছে। সে কারণে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ বিষয়ে ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি বিষয় তদন্তে প্রমাণ হবে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, শেখ হাসিনার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে চার্জশিটে নাম থাকবে না।
খবরওয়ালা/টিএসএন