খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশে শিশুস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে জন্মগত হৃদরোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর প্রাদুর্ভাব এখন মহামারি পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশে প্রতিদিন প্রায় ৮ হাজার শিশুর জন্ম হয়, যার মধ্যে অন্তত ২০০ শিশু হৃদরোগ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭৪ হাজারে। বিশ্বজুড়ে নবজাতকের মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশ হৃদরোগজনিত, আর বাংলাদেশেও নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি প্রায় ৩০ শতাংশ শিশুর মধ্যে এ সমস্যা শনাক্ত হচ্ছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব হার্ট ডে উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে শিশু হৃদরোগ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন, চাইল্ড হার্ট ট্রাস্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হার্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব এডাল্ট অ্যান্ড কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ।
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নূরুন্নাহার ফাতেমা বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক শিশু হৃদরোগ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭৪ হাজারে। এটি ডেঙ্গু বা কোভিডের মতো এক মহামারি। অথচ জাতীয় স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে জন্মগত হৃদরোগ এখনও অন্তর্ভুক্ত হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে দেশে মাত্র ১২–১৬ জন কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ এবং ৬–৮ জন কার্ডিয়াক সার্জন কাজ করতেন। এখনো বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানো না হলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। প্রতিটি নবজাতককে প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে জটিলতার আগে চিকিৎসা দেওয়া যায়।’
প্রধান অতিথি দেশবরেণ্য হৃদরোগ সার্জন অধ্যাপক ডা. এসআর খান বলেন, ‘হৃদরোগ প্রতিরোধ সম্ভব, তবে জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, ধূমপান বর্জন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করলে ঝুঁকি অনেক কমবে। শিশুদের ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বিবাহও একটি বড় ঝুঁকি।’
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ‘মাত্র ২০ পয়সার সিরিন ট্যাবলেট দিয়েই বাতজ্বরজনিত হৃদরোগ প্রতিরোধ সম্ভব, অথচ একটি হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপনে খরচ পড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এ কারণেই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী।’
এ সময় তিনি স্বাস্থ্যবীমার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পশ্চিমা দেশে সরকার রোগীর চিকিৎসা খরচ বহন করে। বাংলাদেশেও স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা জরুরি, নইলে রোগীদের লাখ লাখ টাকা নিজ পকেট থেকে খরচ করতে হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ সাফি মজুমদার, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের প্রফেসর ডা. শাহিদুল ইসলাম, বিএমইউ-এর প্রফেসর ডা. তারিকুল ইসলাম, সিএমএইচ-এর প্রফেসর ডা. নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া, শিশু হাসপাতালের ডা. রেজওয়ানা রিমা ও পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট ডা. আবদুস সালাম।
তারা বলেন, জনসচেতনতার অভাব, চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক অক্ষমতার কারণে অনেক শিশু সঠিক সময়ে চিকিৎসা পায় না। এ সমস্যা কাটাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মিডিয়ার ইতিবাচক ভূমিকা অপরিহার্য।
খবরওয়ালা/এন