আক্তারুজ্জামান
প্রকাশ: 18শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কিত ও সমালোচিত একটি নাম ‘জামায়াতে ইসলামী’। দলটি দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই জামায়াত ইসলাম ধর্মকে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে। তখন তারা প্রকাশ্যে নারীদের ‘গনিমতের মাল’ বলে অভিহিত করেছিল এবং যুদ্ধকালীন ধর্ষণকে বৈধতা দেওয়ার মত বিভৎস বক্তব্য দিয়েছিল।
১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দলটি প্রচারণায় ব্যবহার করেছিল, ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতের ভিসা মিলবে’ -এই ধরনের স্লোগান। যা স্পষ্টতই ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের একটি প্রমাণ।
বর্তমানে জাতিসংঘ স্বীকৃত বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে ৪৭টি দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, যদিও ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন) সদস্য সংখ্যা ৫৭টি। এই বিপুল সংখ্যক মুসলিম দেশের মধ্যে জামায়াত ইসলামি কেবল দুটি দেশেই রাজনীতি করে; পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ।
অবাক করার বিষয় হলো, যেই পাকিস্তানে জামায়াতের জন্ম, সেই দেশেই এখন দলটির অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তানে ২৬৬টি জাতীয় পরিষদের আসনের মধ্যে জামায়াত ২৪৩টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটিতেও জিততে পারেনি। এমনকি উল্লেখযোগ্য কোনো ভোটও অর্জন করতে পারেনি দলটি।
এই চিত্রটি একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দেয় পাকিস্তানে যেখানে দলটির অস্তিত্ব নেই, সেখানে বাংলাদেশে কীভাবে তারা এখনো রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় এবং ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুধু অকার্যকর নয়, বরং বিপজ্জনকও। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জামায়াত যে বারবার বিতর্কিত ও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তার পেছনে ইতিহাস, যুদ্ধাপরাধ, এবং তাদের কার্যকলাপের দীর্ঘ তালিকাই যথেষ্ট।
বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য এখন সবচেয়ে প্রয়োজন গণতন্ত্রের চর্চা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে সমাজ গঠন। ধর্মের অপব্যবহার করে রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকার চেষ্টা যে শেষমেশ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় তা পাকিস্তানের ফলাফলেই পরিষ্কার।
খবরওয়ালা/এমইউ