আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৫, ১:১০ পিএম
ইসরায়েলের গাজা উপত্যকা দখল পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা। রবিবার (১০ আগস্ট) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ইসরায়েল। তবুও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, এটি যুদ্ধ শেষ করার সবচেয়ে ভালো উপায়। খবরটি জানিয়েছে বিবিসি।
বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ সতর্ক করে বলেন, এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে। ডেনমার্ক, গ্রিস ও স্লোভেনিয়াও পরিকল্পনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তারা বলেন, এটি জিম্মিদের ফেরানোর জন্য কিছুই করবে না, বরং তাদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
চীন গাজার মানুষের ওপর সমষ্টিগত শাস্তিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে। রাশিয়া সংঘাত আরও বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে। জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনচা সতর্ক করে বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গাজায় নতুন বিপর্যয় তৈরি হবে এবং আরও বাস্তুচ্যুতি, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাবে। জাতিসংঘের মানবিক কার্যালয়ের রমেশ রাজাসিংহাম জানান, গাজার ক্ষুধা সংকট এখন সরাসরি অনাহারে পরিণত হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সমর্থন জানায়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডরোথি শিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধ শেষ করতে কাজ করছে, আর এই বৈঠক সেই প্রচেষ্টা দুর্বল করছে। তার দাবি, যুদ্ধ আজই শেষ হতে পারে যদি হামাস জিম্মিদের ছেড়ে দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সদস্য এই বৈঠককে ইসরায়েলকে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করার জন্য ব্যবহার করছে।
নেতানিয়াহুর দফতর জানায়, তিনি এ পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, পরিকল্পিত অভিযান দ্রুত শেষ হবে এবং গাজাকে হামাসের হাত থেকে মুক্ত করবে। তিনি দাবি করেন, গাজার মানুষকে নয়, বরং হামাসই ইসরায়েলি জিম্মিদের অনাহারে রাখছে। এছাড়া তিনি জানান, আইডিএফকে গাজা সিটি ও আল-মাওয়াসি সংলগ্ন মধ্যাঞ্চলের দুটি অবশিষ্ট হামাস ঘাঁটি ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেন, কিছু না করলে জিম্মিদের উদ্ধার সম্ভব নয়। বর্তমানে ২০ জন জিম্মি জীবিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে হামাসের প্রচারণায় প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং গাজার অপুষ্ট শিশুর ছবি ‘নকল’ বলে দাবি করেন।
যুদ্ধ চলাকালে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নেতানিয়াহু জানান, গত দুই দিন ধরে বিদেশি সাংবাদিক আনার নির্দেশ কার্যকর রয়েছে। এদিকে, ইসরায়েলজুড়ে হাজারো বিক্ষোভকারী সরকারের পরিকল্পনার বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমেছে। তাদের আশঙ্কা, এ পদক্ষেপ জিম্মিদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন
মন্তব্য