খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা অভূতপূর্ব উৎসাহ দেখিয়েছেন। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে ৫০ কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে। টিকিটের উচ্চমূল্যের কারণে বিতর্ক চললেও তা চাহিদার ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি।
ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে ২১১টি সদস্য দেশ ও অঞ্চলের সমর্থকরা আবেদন করেছেন। লটারির মাধ্যমে টিকিট বরাদ্দের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে গত মঙ্গলবার। ফিফা জানিয়েছে, আবেদন সফল হয়েছে কি না, তা জানানো হবে ৫ ফেব্রুয়ারি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি টিকিটের চাহিদা এসেছে স্বাগতিক দেশগুলোর বাইরে নিম্নলিখিত দেশগুলো থেকে: জার্মানি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া। বিশেষ করে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত কলম্বিয়া-পর্তুগাল ম্যাচের জন্য চাহিদা সর্বোচ্চ। এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৭ জুন।
নিচের টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এবং টিকিটের চাহিদার অগ্রাধিকার দেওয়া হলো:
| তারিখ | শহর/স্টেডিয়াম | ম্যাচ | চাহিদার ধরন |
|---|---|---|---|
| ১৮ জুন | গুয়াদালাহারা | মেক্সিকো – দক্ষিণ কোরিয়া | উচ্চ চাহিদা |
| ২৭ জুন | মায়ামি | কলম্বিয়া – পর্তুগাল | সর্বোচ্চ চাহিদা |
| ১৯ জুলাই | নিউ জার্সি | বিশ্বকাপ ফাইনাল | উচ্চ চাহিদা |
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “এক মাসেরও কম সময়ে অর্ধশত কোটি টিকিট আবেদন আমাদের কাছে শুধুমাত্র চাহিদারই সূচক নয়, এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ভালোবাসার সপ্রমাণ। এই অভূতপূর্ব সাড়ার জন্য আমরা সকল সমর্থককে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। আমরা জানি, বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে দুঃখজনকভাবে স্টেডিয়ামে আমরা সকল সমর্থককে জায়গা দিতে পারছি না।”
এ বছর ৪৮ দলের বিশ্বকাপে টিকিটের মূল্য নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ফিফা। সমর্থক সংগঠনগুলো টিকিটের দামকে ‘অতিরিক্ত’ ও ‘আকাশছোঁয়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই)’ জানিয়েছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার টিকিটের দাম প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে ফিফা ৬০ ডলার (প্রায় ৭ হাজার ৩৩৭ টাকা) মূল্যের একটি নতুন কম দামি টিকিট শ্রেণি চালু করেছে।
ফিফার এই উদ্যোগ আশা জাগাচ্ছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা এবারও বিশ্বকাপ উপভোগের সুযোগ পাবে।