খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
জাতীয় জীবনে এক শোকাবহ মুহূর্তে প্রিয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে লাল-সবুজ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে তার মরদেহ সেখানে পৌঁছায়। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নীরবতা, শোক আর শ্রদ্ধাভরে ভরে ওঠে পুরো পরিবেশ। চারদিকেই মানুষের ঢল, হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফুল; অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
জানাজা পরিচালনা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এর কিছুক্ষণ আগে, দুপুর ২টা ৫ মিনিটে জানাজাস্থলে উপস্থিত হন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা একে একে উপস্থিত হন এবং মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
খালেদা জিয়ার জানাজায় ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই নামাজে জানাজা শুরু হবে বলে জানা গেছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে লোকজন লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানীতে পৌঁছেছেন। যাদের অনেকেই পতাকা হাতে, কেউবা কালো ব্যাজ পরে; সবার মুখে একটাই কথা—”আমাদের নেত্রীকে শেষ দেখা দেখতে এসেছি।”
এর আগে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রথমবারের মতো মরদেহ নিয়ে আসা হয়। সেখানে সাময়িক বিরতির পর প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে বেগম জিয়াকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ খবর পৌঁছাতেই শোকের ছায়া আরও গভীর হয় জনতার মাঝে।
ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে সংবাদটি পাঠকদের বুঝতে সুবিধার জন্য নিচে একটি সময়রেখা তুলে ধরা হলো—
| সময় ও তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫০ এএম | মরদেহ প্রথমবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছায় |
| ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০৫ পিএম | প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত |
| ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২৫ পিএম | পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে মরদেহ জানাজাস্থলে আনা হয় |
| কিছুক্ষণ পর | জানাজা শুরু হওয়ার কথা |
| জানাজা শেষে | জিয়ার কবরের পাশে দাফনের প্রস্তুতি |
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এখন পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। লাখো মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কান্নার মধ্য দিয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে—খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিক নন, ছিলেন জাতির এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর শুন্যতা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক