খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গা-এর উপকূলবর্তী অঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে মধ্যাহ্ন সময়ের মধ্যে ৭.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল নেইয়াফু শহর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে, এবং এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৩৮ কিলোমিটার (১৪৮ মাইল) গভীরে সংঘটিত হয়।
ভূমিকম্পের পর রাজধানী নুকু’আলোফ-এ সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। স্থানীয় ব্রডকাস্টিং চ্যানেলের ফুটেজে দেখা গেছে, অনেক মানুষ বাড়ির ছাদে উঠে অবস্থান নিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
টোঙ্গা জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যালয় উপকূলীয় এলাকার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। তারা স্থানীয়দের অনুরোধ করেছে, তারা যেন দ্রুত উঁচু স্থানে ওঠে বা দেশের অভ্যন্তরে চলে যায়। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, “ভূমিকম্পটি পৃথিবীর গভীর অংশে সংঘটিত হওয়ায় সুনামির সম্ভাবনা নেই।”
টোঙ্গা ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি ঘন ঘন ভূমিকম্প, সুনামি ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের জন্য পরিচিত।
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| মাত্রা | ৭.৬ রিখটার স্কেল |
| কেন্দ্রস্থল | নেইয়াফু শহর থেকে প্রায় ১৫০ কিমি দূরে |
| গভীরতা | প্রায় ২৩৮ কিমি (১৪৮ মাইল) |
| সময় | মঙ্গলবার, সকাল-দুপুর |
| প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি | রিপোর্ট করা হয়নি |
| সুনামি সতর্কতা | উপকূলীয় এলাকায় |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | সাইরেন বাজানো, মানুষ ছাদে অবস্থান |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যদিও এই ভূমিকম্পের তীব্রতা যথেষ্ট বেশি, তবে গভীরতার কারণে সরাসরি বিপজ্জনক সুনামি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে টোঙ্গার অধিবাসীরা অতীত অভিজ্ঞতার কারণে সাবধানতা অবলম্বন করছেন।
টোঙ্গার ভূমিকম্প প্রশাসন এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অব্যাহতভাবে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং মানুষের নিরাপত্তার জন্য সতর্কতা জারি রাখছে।
ভূমিকম্প, সুনামি এবং আগ্নেয়গিরির প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকির কারণে টোঙ্গা-র বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা সর্বদা উচ্চ। দেশটি আগেই শিক্ষা নিয়েছে যে, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সঠিক তথ্যই জীবন রক্ষা করতে পারে।
এই ভূমিকম্প প্রমাণ করেছে যে, প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রস্তুতি অপরিহার্য।