খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে চৈত্র ১৪৩২ | ২২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা শহরের কাছে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনার আশেপাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএএইএ) জানিয়েছে, ডিমোনার প্রায় আট মাইল (১৩ কিমি) দূরে অবস্থিত এই পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাদের কাছে নেই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শনিবার সকালে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আইএএইএ উল্লেখ করেছে, ঘটনার পর কেন্দ্রটির বাইরের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বৃদ্ধির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা জানিয়েছে, হামলার পর ডিমোনায় ৪০ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জনের আঘাত সামান্য, তবে ১০ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। নিকটবর্তী শহর আরাদে পৃথক হামলায় আরো ৬৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন; এর মধ্যে ৪৭ জনের আঘাত সামান্য এবং ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।
জরুরি চিকিৎসা কর্মী ইয়াকির তালকার বলেন, “অত্যন্ত ভয়াবহ দৃশ্য; সেখানে বিভিন্ন মাত্রার আঘাত নিয়ে বহু আহত ব্যক্তি রয়েছেন।”
ইসরায়েলি দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, ডিমোনা এবং আরাদ উভয় এলাকায় ইন্টারসেপ্টর উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তবে কিছু হুমকি ব্যর্থ হওয়ায় শত শত কিলোগ্রামের ওজনযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি সরাসরি আঘাত হানে।
ডিমোনার পারমাণবিক কেন্দ্রকে শিমন পেরেস নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র বা ‘ডিমোনা রিঅ্যাক্টর’ নামে পরিচিত। এটি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্র ভান্ডারের কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি গবেষণার কাজেই ব্যবহৃত হলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইসরায়েল সেখানে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে বলে ধারণা করেন।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| হামলার স্থান | ডিমোনা পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র, নেগেভ মরুভূমি, ইসরায়েল |
| হামলার তারিখ | শনিবার (সম্প্রতি) |
| হামলার উৎস | ইরান (নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা) |
| ক্ষেপণাস্ত্রের ধরণ | ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র |
| নিহত/আহত | গুরুতর আহত ১১, সামান্য আহত ৮৪ |
| তেজস্ক্রিয় ক্ষতি | রিপোর্ট অনুসারে কোনো বৃদ্ধি হয়নি |
| উদ্ধার ও প্রতিরক্ষা | ইন্টারসেপ্টর উৎক্ষেপণ, অ্যাম্বুল্যান্স ও জরুরি সেবা |
আইএএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, “সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রদর্শন করা উচিত, বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে।” ইরানের নিজস্ব পরমাণু শক্তি সংস্থা নাতাঞ্জের ওপর হামলাকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিঃসরণের খবর পাওয়া যায়নি এবং আশপাশের বাসিন্দাদের কোনো ঝুঁকি ছিল না।
এক্ষেত্রে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে সম্ভাব্য হুমকি নির্মূল করা। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাত এবং জুনে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালীন নাতাঞ্জ লক্ষ্যবস্তু ছিল।
ডিমোনার উপর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে পারমাণবিক কেন্দ্র এবং জনবসতি অঞ্চলের আশেপাশে সামরিক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী মেনে চলা কতটা জরুরি।