খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
৬ কেজি ১৭৫ গ্রাম নিখাদ সোনার ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আজ বাংলাদেশের মাটিতে এসে পৌঁছেছে। এটি ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি ট্যুরের অংশ, যা বিশ্বের ৩০টি দেশ ও ৭৫টি প্রদর্শনী স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের জন্য একমাত্র নির্বাচিত স্থান হলো ঢাকার রেডিসন ব্লু হোটেল, যেখানে আজ সকাল ১টা থেকে ট্রফিটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই ট্রফি প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা, যিনি দর্শকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ছবি তোলার সুযোগও নেন।
ট্রফি ট্যুরের তথ্য সংক্ষেপ:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ওজন | ৬ কেজি ১৭৫ গ্রাম |
| উপাদান | নিখাদ সোনা |
| প্রদর্শনী স্থান | রেডিসন ব্লু হোটেল, ঢাকা |
| প্রদর্শনী সময় | সকাল ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা |
| ট্যুর কভার | ৩০ দেশ, ৭৫ স্থানে |
| মোট সময়কাল | ১৫০ দিন |
আজ বেলা দেড়টার দিকে হোটেলে পৌঁছনোর পরই ট্রফিটি দর্শকদের জন্য প্রদর্শনের জন্য সাজানো হয়। শুরু থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় লক্ষ্যণীয় ছিল। দর্শকরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ট্রফির সামনে ছবি তুলছিলেন, কেউ মুঠোফোন বের করে আগেভাগেই ক্যামেরাবন্দী করার চেষ্টা করছিলেন।
স্বেচ্ছাসেবকরা দর্শকদের সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ট্রফি প্রদর্শনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছিলেন। বিশেষ করে ছোট সন্তানসহ পরিবারিক দর্শকরা ট্রফি দর্শনের মুহূর্তকে স্মৃতিমূলক করে রাখার জন্য ছবির আয়োজন করছিলেন। কোলের শিশু হয়তো বুঝতে পারছিল না, তবে তার মা–বাবা বড় হওয়ার পর তাকে নিশ্চিতভাবে এই ট্রফি দেখার গল্প শুনাবেন।
ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে অনেক দর্শক আনন্দমুখর ও উচ্ছ্বসিত ছিলেন। একজন দর্শকের ঝাঁকড়া চুল এবং ফুটবলপ্রেমী উদ্দীপনা যেন বাংলাদেশের একটি ছোট ফুটবল তারকার মতোই নজর কাড়ছিল।
ভিড় ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। দর্শকরা লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পালার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, আবার কেউ ট্রফির সামনে দাঁড়িয়ে স্মৃতিস্মরণে ছবি তুলছিলেন। এই মুহূর্তগুলো কেবল ছবি বা ভিডিওর বিষয় ছিল না, এটি ছিল সারা জীবন মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা।
বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করার সুযোগ পেল। এটি শুধুমাত্র একটি ট্রফি দেখার অনুষ্ঠান নয়, বরং ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্মৃতি, উচ্ছ্বাস এবং গল্প করার রসদ। ভক্তরা আজকের এই অভিজ্ঞতা জীবনভর মনে রাখবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই গল্প শোনাবেন।
বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শনী শেষ হবে ১৫০ দিনের মধ্যে, এবং এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অভূতপূর্ব উদযাপন। বাংলাদেশের দর্শকরা আজ সেসব মুহূর্তের সাক্ষী, যা সারা জীবন গল্প করার মতো অভিজ্ঞতা হিসেবে মনে থাকবে।