খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান সম্প্রতি এক ইসলামী জালসায় মন্তব্য করেছেন, “যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবে না তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো দরকার নেই।” এই বক্তব্য বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর ও কাশিনাথপুরের আব্দুল মজিদ হাফিজিয়া ও দাখিল মাদরাসার উন্নয়নের উদ্দেশ্যে আয়োজিত মসজিদের সভায় দেওয়া হয়।
ভিডিওর এক অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, “আমি অনুরোধ করবো, যারা হাত তোলেননি, তারা আজকে কোরআনের মাহফিল শুনুন। কোরআন ও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকতে হবে।”
মিজানুর রহমান পরে বলেন, “ভিডিওতে যেমন দেখানো হয়েছে, আমি সেভাবে বলিনি। আমি মূলত সবাইকে কোরআনের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছিলাম।”
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, “জামায়াত ইসলামকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ইসলামী জালসায় কোরআন-হাদিসের আলোচনা হওয়ার কথা, সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।”
এর আগে, দেশের অন্যান্য এলাকায়ও ধর্মীয় জালসা সংক্রান্ত বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নলিখিত টেবিলটিতে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখানো হলো:
| তারিখ | এলাকা | ব্যক্তি/পদ | বিতর্কিত বক্তব্য সংক্ষেপ | প্রতিক্রিয়া/পরিণতি |
|---|---|---|---|---|
| ৮ জানুয়ারি | রংপুর | এটিএম আজম খান, জামায়াত আমির | হজরত ইব্রাহিমের কোরবানির তুলনা | ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনা, ক্ষমা চাওয়া |
| ৯ জানুয়ারি | ঝালকাঠি-১ | ফয়জুল হক, প্রার্থী | ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত | নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শো-কজ নোটিশ |
| ১০ জানুয়ারি | সিরাজগঞ্জ-৬ | মিজানুর রহমান, প্রার্থী | কোরআনের মাহফিলে দাঁড়িপাল্লার সমর্থন আবশ্যক | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম হওয়ায় কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মকে ভোট প্রার্থনার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তবে সাধারণ জনগণ ও নেটিজনরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় মাহফিল বা জালসায় কোরআন-হাদিসের মূল শিক্ষা তুলে ধরা উচিত, রাজনৈতিক প্রার্থনা নয়। এই ধরনের বক্তব্য দেশীয় নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।