খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে মাঘ ১৪৩২ | ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে মঙ্গলবার ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-হোমনা সড়কের পাশের কাঠপট্টি এলাকায় একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, আগুন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের দোকানদাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে প্রথমে দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পার্শ্ববর্তী গোমতী নদী থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করে। তবে ফার্নিচারের দোকানে দাহ্য রাসায়নিক ও রঙের কেমিক্যাল থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে হোমনা ও চান্দিনা উপজেলা থেকে আরও ৬টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট এসে সহযোগিতা করে। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বরাতে জানা গেছে, আগুনে পুড়ে গেছে মোট ২৫টি দোকান। ব্যবসায়ীদের দাবি, তাদের মধ্যে ১০টি ফার্নিচারের দোকান, ১টি ইলেকট্রিক ও এসি শোরুম, ২টি অটোরিকশা গ্যারেজ, ৪টি মুদি দোকান এবং চাল ও রমজান উপলক্ষে মজুত রাখা খেজুরের গোডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফার্নিচার ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, “আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু ফার্নিচার মার্কেটেই কয়েক কোটি টাকার মালামাল ছিল।” প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, দাউদকান্দি, হোমনা ও চান্দিনা থেকে ৯টি ইউনিট একত্রে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হালিম জানান, গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আগুন নেভাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের জন্য তদন্ত চলছে।
দোকান ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন নিম্নরূপ:
| দোকানের ধরন | সংখ্যা | ক্ষতির বিবরণ |
|---|---|---|
| ফার্নিচারের দোকান | ১০ | মূল ফার্নিচার ও মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে |
| ইলেকট্রিক ও এসি শোরুম | ১ | ইলেকট্রিক সামগ্রী ও এসি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত |
| অটোরিকশা গ্যারেজ | ২ | গাড়ি ও যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে |
| মুদি দোকান | ৪ | খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত |
| খেজুরের গোডাউন | ৮ | চাল ও খেজুরের মজুদ সম্পূর্ণ নষ্ট |
স্থানীয়রা প্রশাসনের তৎপরতার অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট এবং পুলিশ সদস্যদের দ্রুত কার্যক্রমের কারণে আরও বড় কোনো মানবিক ও আর্থিক ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।