খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রংপুর শহরের সাজাপুর এলাকায় একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার, ১৪ মার্চ সন্ধ্যায়, দেড় বছর বয়সী শিশু জয়দেব ঘোষকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং এরপর তার মা, ৪০ বছর বয়সী সূচনা ঘোষ, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনা ঘটে তাদের নিজ বাড়িতে, নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ডে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সূচনা ঘোষ তার শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর নিজে আত্মহত্যা করেন। প্রথমে ঘটনাটি লক্ষ্য করেন তার দশম শ্রেণির মেয়ে পুষ্পিতা ঘোষ, যিনি জানালার ফাঁক দিয়ে বাবা-মায়ের অবস্থা দেখেন। দ্রুত পুলিশকে জানানো হলে, পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
| নাম | বয়স | পেশা ও অবস্থা | ঘটনার প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|---|
| সূচনা ঘোষ | ৪০ | গৃহিনী, মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত | শিশু হত্যার পর আত্মহত্যা |
| জয়দেব ঘোষ | ১.৫ | শিশু | মা দ্বারা শ্বাসরোধ করে হত্যা |
| শংকর ঘোষ | ৪৫ | মুদি দোকানদার, শারীরিক প্রতিবন্ধী | স্ত্রী ও সন্তানকে হারানোর শোকে |
| পুষ্পিতা ঘোষ | ১৬ | দশম শ্রেণি শিক্ষার্থী | জানালার ফাঁক দিয়ে ঘটনার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী |
শংকর ঘোষ জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। পূর্বে বিভিন্ন সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা নেওয়া হলেও সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন না। তিনি মনে করেন, মানসিক অবসাদ থেকেই তার স্ত্রী এই ভয়াবহ কাজটি করেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, “পরিবারে অভাব-অনটন এবং পারিবারিক অশান্তি ছিল। তবে আসল কারণ—পারিবারিক কলহ নাকি মানসিক অসুস্থতা—এটি তদন্তের পর জানা যাবে।” তিনি আরও জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে পরিবারের আশেপাশের লোকজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে যাতে জানা যায়, মানসিক অসুস্থতার প্রভাব কতটা ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
ঘটনাটি রংপুরের জন্য একটি শোকাবহ এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে জটিল পরিপ্রেক্ষিতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারের সহায়তা এবং সামাজিক মনোযোগ অপরিহার্য, যাতে এমন চরম পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা যায়।
এই দুঃখজনক ঘটনায় পুরো রংপুর শহর শোকাহত। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য নজরদারি জোরদার করেছে।