খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
দেশে বর্তমানে যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী, আর নতুন বিনিয়োগকারীরাও নিরীক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছেন— এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মাশরুর রিয়াজ।
গতকাল এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে শ্লথ গতি চলছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিনিয়োগ ও আমদানি খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শিল্প স্থাপনে ব্যবহৃত মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি ৩০ শতাংশ কমেছে। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, দেশে বিনিয়োগ কমে গেছে। আর বিনিয়োগ কমে গেলে তার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর, যা সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও বেশি শ্লথ করে দেবে।
তবে কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন ড. মাশরুর। তিনি বলেন, ‘রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আগের কিছু মাসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন আপাতত নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।’
এর পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে সম্ভাব্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। যদিও এই সিদ্ধান্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত রয়েছে, তবে মেয়াদ শেষে যদি তা কার্যকর হয়, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নতুন করে বড় ধাক্কার মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি। “শুল্ক আরোপ হলে আমাদের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, ফলে বৈদেশিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে,” বলেন ড. মাশরুর।
তিনি আরও জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও বর্তমানে চাহিদা কমে গেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে নিচের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে নতুন বিনিয়োগের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবকে দেখছেন ড. মাশরুর রিয়াজ। তার মতে, ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।’
খবরওয়ালা/এমবি