খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে পৌষ ১৪৩২ | ১৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইসলাম ধর্মের অত্যন্ত পবিত্র ও সংবেদনশীল বিষয় ‘কোরবানি’ এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান ত্যাগের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতাকে তুলনা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান। পীরগাছা-কাউনিয়া আসনের এই প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থীর একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
বিতর্কিত বক্তব্যের প্রেক্ষাপট
গত ৮ জানুয়ারি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় এই ঘটনা ঘটে। সেখানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সভায় এটিএম আজম খান জোটগত সমঝোতার কারণে নিজের প্রার্থীতা ত্যাগের ঘটনাটিকে ধর্মীয় কোরবানির সাথে তুলনা করেন। তিনি দাবি করেন, দলের কেন্দ্র থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়েছে যে তার এই ত্যাগ বা ‘কোরবানি’ হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পুত্র কোরবানির চেয়েও বড়।
বক্তব্যের মূল অংশ ও যুক্তি
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, কেন্দ্র থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে ইব্রাহিম (আ.)-এর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত দুম্বা কোরবানি হয়েছিল, কোনো মানুষ নয়। কিন্তু তার (আজম খানের) ক্ষেত্রে পীরগাছা-কাউনিয়ার লাখ লাখ মানুষের আকাঙ্ক্ষার কোরবানি হয়েছে, তাই এটি আরও বড়। এই ব্যাখ্যা শোনার পর তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও ভিডিওতে দাবি করা হয়।
বক্তব্যের সারসংক্ষেপ ও প্রাসঙ্গিক তথ্য নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| বক্তা | এটিএম আজম খান, আমির, রংপুর মহানগর জামায়াত। |
| অনুষ্ঠানের স্থান | কদমতলা, পীরগাছা, রংপুর। |
| ঘটনার তারিখ | ৮ জানুয়ারি, ২০২৬। |
| তুলনার বিষয় | হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানি বনাম রাজনৈতিক মনোনয়ন ত্যাগ। |
| নির্বাচনী আসন | রংপুর-৪ (পীরগাছা–কাউনিয়া)। |
| বর্তমান জোট | ১১ দলীয় জোট। |
| সমালোচনার কারণ | ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে অবমাননাকর তুলনা। |
জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইসলামি চিন্তাবিদ ও সাধারণ মানুষ বলছেন, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দেওয়া নবীর কোরবানিকে তুচ্ছ করে রাজনৈতিক স্বার্থ ত্যাগের সাথে তুলনা করা চরম ধৃষ্টতা। অনেকেই একে সস্তা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ধর্মকে ব্যবহারের নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, কোনো রাজনৈতিক বিসর্জনই নবুওয়াতের মর্যাদার সমতুল্য হতে পারে না।
রাজনৈতিক অবস্থান ও ত্যাগ
উল্লেখ্য যে, এটিএম আজম খান রংপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে ১১ দলীয় জোটের অভ্যন্তরে জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে সমঝোতার কারণে ওই আসনটি জোটের অন্য প্রার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি। মূলত এই ব্যক্তিগত ও দলীয় সিদ্ধান্তকেই তিনি এবং তার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ধর্মীয় ত্যাগের চেয়েও বড় হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছেন।
বর্তমানে এই বক্তব্যটি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে অস্বস্তি বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কোনো পর্যায় থেকে এই বক্তব্যের স্বপক্ষে বা বিপক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।