খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার বিমা খাত আগামী দিনে অধিকতর স্থিতিশীল মূলধন পরিস্থিতি এবং মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বাজার সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বা সলভেন্সি সংক্রান্ত চাপ হ্রাস পাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের বিনিয়োগের রিটার্ন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিংসের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিমা শিল্পের এই অর্থনৈতিক চিত্র এবং আসন্ন আইনি পরিবর্তনের পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।
ফিচ রেটিংসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিমা কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা ডিসকাউন্ট হারের (liability discount rates) হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা ধীর বা মধ্যম সারিতে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি নিকটবর্তী সময়ে সমগ্র বিমা খাতে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বা সলভেন্সি চাপ প্রশমিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বল্পমেয়াদে উচ্চ সুদের হারের কারণে বিমা কোম্পানিগুলো তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু অবাস্তবায়িত লোকসানের (unrealised investment losses) সম্মুখীন হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই বর্ধিত সুদের হার তাদের সামগ্রিক বিনিয়োগের ফলন বা ইল্ড (investment yields) ক্রমান্বয়ে উন্নত করবে। ফিচ রেটিংস প্রত্যাশা করছে যে, শক্তিশালী বাজার সুদের হার এবং ইন-ফোর্স কন্ট্রাকচুয়াল সার্ভিস মার্জিনের (CSM) ধারাবাহিক বৃদ্ধির ওপর ভর করে এই শিল্পের মূলধনীকরণ ও মুনাফা অর্জনের ধারা আগামীতে স্থিতিশীল হবে। উল্লেখ্য, কন্ট্রাকচুয়াল সার্ভিস মার্জিন বা সিএসএম হলো বিমা অ্যাকাউন্টিং মানদণ্ড অনুযায়ী ভবিষ্যৎ মুনাফা পরিমাপের একটি অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
ফিচ রেটিংস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ২০১৫ সাল জুড়ে কোরিয়ান ইন্স্যুরেন্স ক্যাপিটাল স্ট্যান্ডার্ড বা কে-আইসিএস (K-ICS) অনুপাতের দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে। এই সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তনটি মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সামগ্রিক বিমা খাতের শক্তিশালী পুঁজির পর্যাপ্ততা বা ক্যাপিটাল অ্যাডেকুয়েসি নির্দেশ করে।
অবশ্য এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই খাতের কোম্পানিগুলোর নিট আয় বা সামগ্রিক মুনাফায় এক ধরনের পতন বা হ্রাস লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (ফার্স্ট কোয়ার্টার) এসে সেই লোকসান বা পতন আংশিকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে এবং মুনাফার ধারা পুনরুদ্ধারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
আর্থিক সূচকের এই ইতিবাচক ধারার পাশাপাশি ফিচ রেটিংস আসন্ন কিছু নিয়ন্ত্রক বা আইনি পরিবর্তনের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, যা হুট করে কিছু বিমা প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। এই নতুন প্রবিধানগুলোর মধ্যে প্রধান দুটি বিষয় হলো:
অ্যাকচুয়ারি অনুমানের প্রমিতকরণ: বিমা গণনার ক্ষেত্রে অ্যাকচুয়ারি অনুমানের (actuarial assumptions) জাতীয়করণ বা প্রমিতকরণ নিশ্চিত করা।
ন্যূনতম মূল মূলধন কড়াকড়ি: বিমা খাতের সামষ্টিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ন্যূনতম কোর ক্যাপিটাল বা মূল মূলধনের প্রয়োজনীয়তা প্রবর্তন করা।
বিমা খাতের এই নতুন বিধিমালাগুলোর প্রভাব সব কোম্পানির ওপর সমানভাবে পড়বে না। কোম্পানিগুলোর নিজস্ব অ্যাকচুয়ারি অনুমান এবং আন্ডাররাইটিং বা ঝুঁকি গ্রহণ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এই নতুন নিয়মের প্রভাব একেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। তবে আসন্ন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ফিচ রেটিংস দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, কোরিয়ার বিমা খাতের সামগ্রিক মূলধন বা পুঁজির বাফার (capital buffers) এই ধরনের আইনি ও কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো সফলভাবে শুষে নেওয়ার বা মানিয়ে নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ পর্যাপ্ত রয়েছে।