খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইসলামি সংগীতের নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের ভিড়ে আলাদা আলোয় জ্বলছেন মুছলেহ উদ্দিন আকন্দ মুছলেহ। বাংলা ও আরবি—দুই ভাষায় তাঁর নাশিদ তরুণদের মনে এক বিশেষ আবেদন তৈরি করেছে। আধ্যাত্মিক সুর, হৃদয়ছোঁয়া কথামালা আর অনন্য উপস্থাপনশৈলীর কারণে তিনি হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত এক নাশিদ শিল্পী। ইউটিউবে তাঁর গানগুলো নিয়মিত মিলিয়ন ভিউ ছুঁয়ে যাচ্ছে, যা তাঁর জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।
সাম্প্রতিক এক আলাপে মুছলেহ জানান—তাঁর গান শুধুই শিল্পচর্চা নয়; এটি তাঁর হৃদয়ের আবেগ, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার প্রকাশ।
তিনি বলেন,
“রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসাই আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। সেই প্রেমকে সুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারাই আমার প্রকৃত সাফল্য।”
ইউরোপে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁর সঙ্গীতে এনে দিয়েছে বৈচিত্র্য। আরবীয় সুর, বাংলা ভাষার কোমল উচ্চারণ এবং ইউরোপীয় সংগীতনন্দনের মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে তাঁর নিজস্ব সংগীতধারা। ভিজ্যুয়াল, পোশাক–পরিচ্ছদ ও লোকেশনেও রয়েছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সুসমন্বয়।
বর্তমান সংগীতজগতে যেখানে প্রেম-বিরহ বা হাহাকারই প্রাধান্য পাচ্ছে, সেখানে মুছলেহর লক্ষ্য তরুণদের আধ্যাত্মিকতা, দয়া, নৈতিকতা ও আশার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন,
“আমি গান করি, তবে তার চেয়েও বেশি গল্প বলি—মানুষকে আলোর পথ দেখানোর গল্প।”
তাঁর মতে, ভুল মানুষ করে, কিন্তু তওবার দরজা সবসময় খোলা। সঙ্গীতের মাধ্যমেই তিনি তরুণদের মাঝে এই ইতিবাচক বাস্তবতা তুলে ধরতে চান।
মাদ্রাসা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে হামদ–নাত গাইতে গাইতেই তাঁর সংগীতভালোবাসার জন্ম। পেশাদার নাশিদশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু কয়েক বছর আগে হলেও এখন এটিই তাঁর পূর্ণকালীন মিশন। সিনেমাটিক ভিডিও, শক্তিশালী টিমওয়ার্ক, গল্পনির্ভর কনসেপ্ট এবং আধুনিক প্রোডাকশন মান তাঁকে অনন্য অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
মুছলেহ শিগগিরই প্রকাশ করতে যাচ্ছেন নতুন নাশিদ। পাশাপাশি ‘রাহমান’ নামে বড় একটি ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে কাজ করছেন, যেখানে তুলে ধরা হবে—
বাস্তব জীবনের সংগ্রাম
তওবা ও আত্মশুদ্ধির গল্প
আশা ও ইতিবাচকতার বার্তা
তরুণদের জন্য ‘হালাল আর্ট’, নাশিদ প্রোডাকশন, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং ও ইসলামি কনটেন্ট ক্রিয়েশনের প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
মুছলেহর বিশ্বাস—
“গান শুধু শোনার বিষয় নয়; অনুভবের বিষয়। ভালো ভিজ্যুয়াল সেই অনুভূতিকে গভীর করে।”
তিনি ভিউ বা ট্রেন্ডের পেছনে ছোটেন না। বরং গল্পনির্ভর, চলচ্চিত্রধর্মী এবং মানসম্মত নির্মাণই তাঁর অঙ্গীকার। বাজেট সীমিত হলেও লোকেশন, লাইটিং, কোরিওগ্রাফি, পোশাক—প্রতিটি দিকেই তিনি নতুনত্ব আনতে চেষ্টা করেন।
সমালোচকরা বলেন—তিনি অর্থব্যয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন। এতে মুছলেহ দমে যান না।
তিনি মনে করেন,
“সমালোচনা আমাকে আরও শুদ্ধ করে। একজন মানুষের মনেও যদি আমার গান আলো ছড়ায়—সেটাই সার্থকতা।”
মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় ইসলামি সংগীতের কম উপস্থিতি থাকলেও ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর গান এখন বিশ্বজুড়ে শোনা হচ্ছে।
| নাশিদের নাম | ভাষা | ইউটিউব ভিউ (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| ফিদাকা কালবি | আরবি | মিলিয়ন+ |
| ওয়া রাফানা লাকা জিকরাক | আরবি | মিলিয়ন+ |
| হৃদয়ের গহীনে | বাংলা | লক্ষাধিক |
| ইয়া হাবিবি | আরবি | মিলিয়ন+ |
মুছলেহ বলেন,
“ব্যবসা আমাকে জীবিকা দিয়েছে, কিন্তু নাশিদ দিয়েছে জীবনধারার মিশন। উম্মাহর তরুণদের জন্য ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করতে চাই।”
তরুণদের হৃদয়ে নবীপ্রেম, আধ্যাত্মিকতা ও ইতিবাচকতার আগুন জ্বালিয়েই তাঁর সুরযাত্রা আরও দূর এগিয়ে চলবে—আজ, আগামীকাল এবং ভবিষ্যৎেই।