খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে মাঘ ১৪৩২ | ১৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি মরশুমে সিলেটের নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটসম্যান হাসান ইসাখিল বেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রাথমিক ম্যাচগুলোতে বেঞ্চে বসে কাটানোর পরই তিনি প্রথম সুযোগ পেয়েছিলেন এবং তা সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করেছেন। নিজের অভিষেক ম্যাচে বাবার সঙ্গে মাঠে নেমে গড়ে তুলেছেন এক ইতিহাস—৬০ বলে ৯২ রান।
এরপরের ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ইসাখিলের ইনিংস আরও চোখধাঁধানো হয়ে ওঠে। ৭২ বলে ১০৬ রান করেন, যার মধ্যে ৪টি চার ও ১১টি ছক্কা ছিল। এই পরিসংখ্যান তাঁকে বিপিএলের এক ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানো ত্রয়ীর সঙ্গে যুক্ত করেছে—ক্রিস গেইল, তামিম ইকবাল এবং জনসন চার্লস।
ইসাখিল বলেন, “আমি কখনোই লক্ষ্য নিয়ে নামি না যে ১০–১১টি ছক্কা মারতে হবে। আজ যে ১১টি ছক্কা মারলাম, তা আমি বুঝতেও পারিনি। তিন ম্যাচে অনেক ছক্কাই এসেছে।”
এর আগে ইসাখিলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে সেঞ্চুরি ছিল। তবে টি–২০ ফরম্যাটে এটি তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এই ইনিংসকে বড় প্রেরণা হিসেবে দেখছেন তিনি। ইসাখিল আরও জানান, “যদি কেউ আমাকে দলে নেয়, আমি আবার বিপিএলে খেলার সুযোগ চাই।”
রংপুরের বিপক্ষে ইনিংসের শুরু ধীরগতিতে হলেও, ৫০ রানের ফিফটির পর পরের ২২ বলেই ৫৭ রান যোগ করেন। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সর্বমোট সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৩ রানে। যদিও দল এই সংগ্রহে জয় পায়নি, তবু ইসাখিলের পারফরম্যান্স এক ইতিহাস তৈরি করেছে।
ইনিংসের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বললেন, “পরিকল্পনা ছিল সহজ—ঠিক জায়গায় বল পেলে মারতে যাব। প্রথম ১০–১২ ওভার কঠিন ছিল। স্ট্রাইক রোটেশন ভালো হচ্ছিল না। পরে উইকেট বদলে গেলে নিজেকে বলছিলাম—এখনই মারতে হবে।”
নিচের টেবিলে ইসাখিলের বিপিএল ইনিংসের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| ম্যাচ | বিপক্ষ দল | বল | রান | চার | ছক্কা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|---|
| অভিষেক | [বিপিএল ২০২৬] | ৬০ | ৯২ | ৫ | ৭ | বাবার সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ইতিহাস |
| রংপুর রাইডার্স | ৭২ | ১০৬ | ৪ | ১১ | টি–২০ ফরম্যাটে প্রথম সেঞ্চুরি, সর্বাধিক ছক্কা |
এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে হাসান ইসাখিল শুধু নিজেকে নয়, বরং তার পিতার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নাম উজ্জ্বল করার পথে এগিয়ে গেছেন। ভবিষ্যতে বিপিএলে আবার সুযোগ পেলে তিনি খেলবেন বলেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।