নরসিংদীতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আরেকজন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০)কে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার মাধবদী এলাকায়। এই গ্রেপ্তারে মামলায় জড়িত মোট গ্রেপ্তারকৃত আসামির সংখ্যা বেড়ে আট হয়েছে।
র্যাব–১১-এর নরসিংদীর ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনা ঘটেছে যখন কিশোরী ধর্ষণের বিচার চেয়ে তার বাবার কাছে অভিযোগ জানায়। অভিযোগের পরপরই কিশোরীকে অপহরণ করা হয় এবং মাধবদী এলাকার একটি শর্ষেখেতে হত্যা করা হয়। লাশ উদ্ধার করা হয় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে। ঘটনার রাতেই মাধবদী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ২–৩ জন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিকে নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামির তথ্য
নিচের টেবিলে এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বয়স ও পরিচয় দেখানো হলো:
| নাম | বয়স | বাড়ি | অবস্থান |
|---|---|---|---|
| নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা | ২৮ | নরসিংদী সদর | গ্রেপ্তার |
| এবাদুল্লাহ | ৪০ | নরসিংদী সদর | গ্রেপ্তার |
| হযরত আলী | ৪০ | নরসিংদী সদর | গ্রেপ্তার |
| মো. গাফফার | ৩৭ | নরসিংদী সদর | গ্রেপ্তার |
| আহাম্মদ আলী দেওয়ান | ৬৫ | নরসিংদী সদর | গ্রেপ্তার |
| ইমরান দেওয়ান | ৩২ | নরসিংদী সদর | গ্রেপ্তার |
| মো. আইয়ুব | ৩০ | নরসিংদী সদর | গ্রেপ্তার |
| ইছাহাক ওরফে ইছা | ৪০ | মাধবদী, নরসিংদী | গ্রেপ্তার |
| আবু তাহের | ৫০ | নরসিংদী সদর | পলাতক |
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানিয়েছেন, পলাতক আসামি আবু তাহেরকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্তে তৎপর রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড গ্রামে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। পরিবার ও কমিউনিটি সদস্যরা দ্রুত ন্যায়বিচার কামনা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
মামলার তদন্তে এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী দল নিশ্চিত করেছে, শীঘ্রই পুরো মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে, যাতে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনায় নরসিংদী জেলা এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে, বিশেষত শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।