খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যা মামলায় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ সাতজনের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই রিমান্ডে আসামিরা মামলার তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) আদালতর বিচারক মো. মেহেদী হাসান এ রিমান্ড আদেশ দেন। আদালতের সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নূরসহ গ্রেফতার সাতজনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। আদালত এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মাধবদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওমর কাইয়ুম জানান, ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তথ্য চাপা দেওয়ার জন্য সালিশ বৈঠক আয়োজন ও সহায়তা করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পলাতক দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে হাজির হননি। এ প্রসঙ্গে নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান ভুইয়া বলেন, সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মামলায় আসামি পক্ষকে কোনো আইনজীবী সহায়তা দেবে না। রাষ্ট্রপক্ষকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ যদি দ্রুত চার্জশিট দাখিল করে, তবে মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে সমাপ্ত করা সম্ভব হবে। সমিতি বিশ্বাস করে, মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
উল্লেখযোগ্য, ২৫ ফেব্রুয়ারি মাধবদীতে নূর মোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা ছুরি দেখিয়ে কিশোরীকে জিম্মি করেন। পরে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং লাশ সরিষাখেতে ফেলে রাখা হয়। নিহতের মা মাধবদী থানায় নূরকে প্রধান করে ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
| আসামি নাম | গ্রেফতার তারিখ | রিমান্ড মঞ্জুর | অভিযোগ সংক্ষেপ |
|---|---|---|---|
| নূর মোহাম্মদ নূরা | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | ধর্ষণ ও হত্যা প্রধান |
| আসামি ২ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | ধর্ষণে সরাসরি জড়িত |
| আসামি ৩ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | ধর্ষণে সরাসরি জড়িত |
| আসামি ৪ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | ধর্ষণে সরাসরি জড়িত |
| আসামি ৫ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | সালিশ বৈঠক ও সহযোগিতা |
| আসামি ৬ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | সালিশ বৈঠক ও সহযোগিতা |
| আসামি ৭ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | ৮ দিন | সালিশ বৈঠক ও সহযোগিতা |
পুলিশ ও আইনজীবী সমিতি আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত চার্জশিট দাখিল ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে এই নৃশংস ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।