খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ সামছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুই পদে একসঙ্গে নিয়োগ দেখিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষকদের পাশ কাটিয়ে জুনিয়র শিক্ষক সামছ উদ্দিন প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেন। পরে সেই পদে থেকেই তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিজেকে নিয়োগ দেখান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর তিনি একসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদে থেকে দুইটি পদের বিপরীতে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা অতিরিক্ত তুলে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত ২৫ জুন মো. আ. রহিম নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে জেলা শিক্ষা অফিস করিমগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে সামছ উদ্দিনের দুই পদে বেতন নেওয়ার বিষয়টি সত্য বলে প্রমাণ মিলেছে।
তবে অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি অভিযুক্ত সামছ উদ্দিন। তার দাবি, দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিয়ম ভঙ্গ করেননি। বরং বর্তমান প্রধান শিক্ষক তার ‘অপকর্ম’ ঢাকতে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহার মাকছুদা বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক ও ৬৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
খবরওয়ালা/এন