খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা না হলেও, আগামী সরকার গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজধানীতে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসস্থানের খোঁজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নিরাপত্তা ও কাঠামোগত দিক বিবেচনায়, হেয়ার রোড এলাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ এবং এর আশপাশের দুটি বাংলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত ৭ জুলাই এ বিষয়ে সুপারিশ করতে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ২০ জুলাই মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিটির একজন সদস্য জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আবাসস্থল নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কারণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ১৫ বছর গণভবনে অবস্থান করেছিলেন। তবে ২০২৩ সালের ৫ আগস্টের পর গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো সরকারপ্রধান গণভবনে বসবাস করতে পারবেন না।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলো এবং যমুনা ভবন একত্রে সমন্বিতভাবে নতুন প্রধানমন্ত্রী বাসভবন হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমানে যমুনা ভবনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলো ব্যবহার করছেন প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় এসেছে শেরেবাংলা নগরের সেই স্থান, যেখানে একসময় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতো। মেলা পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়ার পর জায়গাটি খালি পড়ে আছে। তবে কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এই জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের সুপারিশ করেনি।
কমিটির একাধিক সদস্য জানান, শেরেবাংলা নগর এলাকা স্থপতি লুই আই কানের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠায় সেখানে বড় স্থাপনা নির্মাণ করলে স্থাপত্য নীতিমালা লঙ্ঘিত হবে। অন্যদিকে, নতুন স্থাপনা নির্মাণের জন্য অনুমোদন ও নির্মাণ—দুটোই সময়সাপেক্ষ। তাই নিরাপত্তা, যোগাযোগ, পরিবেশ ও নানান দিক বিবেচনায় হেয়ার রোড এলাকাকেই প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
খবরওয়ালা/এমএজেড