খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত ও সহিংস হয়ে উঠেছে বলে জানাচ্ছে মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা, নিহত ও আহতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজ মঙ্গলবার আসক থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে দেশজুড়ে ১৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ২৬৮ জন আহত হন।
তবে জানুয়ারি মাসের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এক মাসে মোট ৭৫টি সহিংসতা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ এবং আহতের সংখ্যা ৬১৬। আসক জানায়, মাসজুড়ে সহিংসতার মাত্রা ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
নিম্নলিখিত টেবিলে জানুয়ারি মাসের সহিংসতার সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
| তারিখ সীমা | সহিংসতার সংখ্যা | নিহত | আহত |
|---|---|---|---|
| ১–১০ জানুয়ারি | ৮ | ৫ | ২৬ |
| ১১–২০ জানুয়ারি | ১৮ | ২ | ১৭৬ |
| ২১–৩১ জানুয়ারি | ৪৯ | ৪ | ৪১৪ |
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ায় ২১–৩১ জানুয়ারি এই সময়কালে সহিংসতা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সাংবাদিকরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডিসেম্বর মাসে ১১ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত বা বাধাগ্রস্ত হন, যা জানুয়ারিতে বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে।
আসক এই ক্রমবর্ধমান সহিংস পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক, যা নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতেও সুনিশ্চিত করতে হবে।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সব পক্ষকে আইন, সংবিধান ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি, যাতে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।”