খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে একই পরিবারের দুই নারী ও এক শিশুসহ চারজনকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মজিবুর রহমান মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি বিচার চাইতে থানায় গেলেও তাঁদের অসহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামে দেবোত্তর (মন্দির) সম্পত্তির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে দুই ভাই শংকর হাওলাদার এবং সমীর হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলে আসছিল। সমীর হাওলাদারের পরিবার প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই মন্দির সংলগ্ন জমিতে বসবাস করে আসছেন।
গত শুক্রবার দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমির একটি চাম্বল গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় সেটির ডাল কাটার উদ্যোগ নেন সমীর হাওলাদার। এসময় তাঁর ভাই শংকর হাওলাদার স্থানীয় বিএনপি নেতা মজিবুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, মজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমান ও ওহাব মিয়াসহ আরও কয়েকজন সহযোগী ছিলেন। তাঁরা গাছের ডাল কাটতে বাধা প্রদান করেন এবং একপর্যায়ে সমীর হাওলাদারের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
হামলায় সমীর হাওলাদারের পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের পরিচয় নিচে প্রদান করা হলো:
| ক্রমিক | আহত ব্যক্তির নাম | বয়স | পারিবারিক পরিচয় |
| ১ | সমীর হাওলাদার | ৫২ বছর | গৃহকর্তা ও জমির দাবিদার |
| ২ | সবিতা রানী | ৪২ বছর | সমীর হাওলাদারের স্ত্রী |
| ৩ | ঝিলিক হাওলাদার | ২২ বছর | সমীর হাওলাদারের কন্যা |
| ৪ | পিয়াস | ৪ বছর | ঝিলিক হাওলাদারের পুত্র (নাতি) |
আহত ঝিলিক হাওলাদার অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা গাছের ডাল দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পিটিয়েছেন। তাঁর চার বছর বয়সী শিশু সন্তান পিয়াস মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে লাথি মেরে সরিয়ে দেওয়া হয়। সমীর হাওলাদার দাবি করেন, মজিবুর রহমান একপক্ষের কথা শুনেই তাঁদের ওপর চড়াও হন। এছাড়া অতীতে মন্দির সংস্কারের কথা বলে মজিবুর রহমান সমীর হাওলাদারের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছিলেন, যা ফেরত বা কাজ কোনটিই করা হয়নি। সেই ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেও এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
অভিযুক্ত মজিবুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে দেখেন এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী উভয় পক্ষের লোকই আহত হয়েছেন। তিনি বা তাঁর সহযোগীরা কাউকে মারধর করেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনার পর থেকে অন্য পক্ষ শংকর হাওলাদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের কোনো বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম তা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে শুনেছেন এবং ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।