খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৭ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী আহ্সান খলিল পদত্যাগ করেছেন। মাত্র ১৫ মাস দায়িত্ব পালনের পর আজ রোববার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে পদত্যাগপত্রের অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে তিন বছরের চুক্তিতে মেঘনা ব্যাংকে এমডি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন কাজী আহ্সান খলিল। তবে হঠাৎ করেই নতুন পরিচালনা পর্ষদ তাকে ছুটিতে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়, যা মেনে না নিয়ে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
কাজী আহ্সান খলিল বলেন, ‘নতুন পর্ষদ আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে ছুটিতে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। আমি সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে নিজেই পদত্যাগ করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করলেই আরও অনেক কিছু জানবে।’
৩৫ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে তিনি প্রাইম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। মেঘনা ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি এনআরবি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান ব্যবসায় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেঘনা ব্যাংকের এমডির পদত্যাগপত্র তারা পেয়েছেন।
চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক মেঘনা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। এর পর শেয়ারধারী ও স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়, যাঁদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এইচ এন আশিকুর রহমান। এ ছাড়া ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরিবার ও তাঁদের ঘনিষ্ঠরা। ব্যাংকটির অধিকাংশ শেয়ার তাদের মালিকানায় থাকলেও নতুন পর্ষদে তাদের জায়গায় নিয়োগ পান শেয়ারধারী উজমা চৌধুরী ও তানভীর আহমেদ।
স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মামুনুল হক ও রজব আলী, যমুনা ব্যাংকের সাবেক এমডি নজরুল ইসলাম, প্রাইম ব্যাংকের সাবেক অতিরিক্ত এমডি হাবিবুর রহমান এবং হিসাববিদ আলি আকতার রিজভী। নতুন পর্ষদ থেকে উজমা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
খবরওয়ালা/এন