খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় এক পৈশাচিক যৌন নির্যাতনের ঘটনা কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে নির্যাতিতা শিশুটি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক রিফাত (১৯) পলাতক রয়েছে।
গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) সন্ধ্যায় ভবানীপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে গাভীর দুধ আনার জন্য বের হয়। বাড়ির ফেরার পথে নির্জন স্থানে ওত পেতে থাকা রিফাত শিশুটির মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী একটি বাঁশঝাড়ের আড়ালে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।
এক পর্যায়ে শিশুটির আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে অভিযুক্ত রিফাত দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে রাতেই পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে সেখানে গাইনি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শারীরিক ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। তার ফরেনসিক পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল (রবিবার) রাতে নির্যাতিতা শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ভবানীপুর গ্রামের আজাদুল মিয়ার ছেলে রিফাতকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান যে, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নিচে উক্ত অপ্রীতিকর ঘটনার মূল তথ্যগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | ভবানীপুর গ্রাম, বরিশাল ইউনিয়ন, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা। |
| ভুক্তভোগীর পরিচয় | স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। |
| প্রধান অভিযুক্ত | রিফাত (১৯), পিতা: আজাদুল মিয়া। |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ৪ এপ্রিল, শনিবার সন্ধ্যা। |
| মামলা দায়েরের তারিখ | ৫ এপ্রিল, রবিবার রাত। |
| বর্তমান চিকিৎসার স্থান | গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল। |
| তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ | পলাশবাড়ী থানা পুলিশ। |
এদিকে গ্রামে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে অভিযুক্ত রিফাতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে গ্রামে এ ধরণের অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। তারা এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
গাইবান্ধার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার বিচার হওয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরণের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়। শিশু অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিফাত ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য গা ঢাকা দিয়েছে। তবে পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।