আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের তিনটি জেলা—বাজাউর, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান এবং লোয়ার দির—গত তিন দিনে (১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর) সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে কমপক্ষে ৪৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এই অভিযানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১৯ জন সেনাসদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগীয় জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তিনটি জেলায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বাজাউরে ২২ জন, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে ১৩ জন এবং লোয়ার দিরে ১০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশটি আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এবং পাকিস্তানের তালেবানপন্থী রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নিহত সন্ত্রাসীরা টিটিপি-এর সদস্য ছিল বলে জানা গেছে।
২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে চলে যাওয়ার পর ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল তালেবান ক্ষমতা দখল করে। এই গোষ্ঠী ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের দুটি প্রদেশ—খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানে—সন্ত্রাসবাদের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে।
২০২৪ সাল ছিল পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ বছর, কারণ এই বছরে মোট ১৪৪টি ছোট-বড় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। শতাংশের হিসেবে গত এক দশকে ২০২৪ সালে সন্ত্রাসী হামলার হার ছিল ৪০ শতাংশ বেশি। এসব হামলায় ৬৮৫ জন সেনাসদস্য এবং ৯২৭ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। এর বিপরীতে, গত বছর সেনা-পুলিশের যৌথ অভিযানে ৯৩৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছিল।
সূত্র: জিও নিউজ
খবরওয়ালা/টিএসএন