রবিবার, ২১ই জুন ২০২৬, ৭শে আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২১ই জুন ২০২৬, ৭শে আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত তেহরানে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে রাশিয়া ও চীনের বৈঠক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু ফ্রান্সে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মোদি ও ট্রাম্প ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত তেহরানে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে রাশিয়া ও চীনের বৈঠক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু ফ্রান্সে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মোদি ও ট্রাম্প ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত তেহরানে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে রাশিয়া ও চীনের বৈঠক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু ফ্রান্সে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মোদি ও ট্রাম্প ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত তেহরানে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে রাশিয়া ও চীনের বৈঠক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু ফ্রান্সে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মোদি ও ট্রাম্প ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত তেহরানে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে রাশিয়া ও চীনের বৈঠক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু ফ্রান্সে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মোদি ও ট্রাম্প ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত তেহরানে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে রাশিয়া ও চীনের বৈঠক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু ফ্রান্সে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মোদি ও ট্রাম্প ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত তেহরানে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে রাশিয়া ও চীনের বৈঠক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু ফ্রান্সে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মোদি ও ট্রাম্প ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত তেহরানে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে রাশিয়া ও চীনের বৈঠক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু ফ্রান্সে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মোদি ও ট্রাম্প ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত তেহরানে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে রাশিয়া ও চীনের বৈঠক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু ফ্রান্সে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মোদি ও ট্রাম্প ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত তেহরানে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তে রাশিয়া ও চীনের বৈঠক নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু ফ্রান্সে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন মোদি ও ট্রাম্প ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি

জাতীয়

পাচার হয় খাদ্য ও ওষুধ, বিনিময়ে ফেরে মাদক

খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

পাচার হয় খাদ্য ও ওষুধ, বিনিময়ে ফেরে মাদক

রাতের সমুদ্র ঘন অন্ধকারে ঢাকা। সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ঢেউয়ের শব্দে মিশে যাচ্ছে ইঞ্জিনের গর্জন। জোয়ারের পানিতে দুলছে কয়েকটি ট্রলার—নিভানো আলোয় এগিয়ে চলছে মিয়ানমারের রাখাইনের দিকে। বস্তাভর্তি চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রাখা আছে ট্রলারের ভেতর। মাছ ধরা নামের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে ভয়ংকর এক কারবার। এসব বাংলাদেশি পণ্যের বিনিময়ে ফেরে কোটি টাকার ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস)।

নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফ এখন ‘পণ্য বিনিময়ে মাদক বাণিজ্যের’ নতুন কেন্দ্র। মাত্র ২০ লাখ টাকার খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য পাঠালে ফেরে অন্তত ২ কোটি টাকার মাদক। গভীর সমুদ্রপথ ও মৎস্যঘাট ব্যবহার করে গোপনে চলে এই লেনদেন। এতে জড়িত স্থানীয় প্রভাবশালী, জেলে ও রোহিঙ্গারা। নেতৃত্বে কুখ্যাত ‘সেভেন স্টার গ্রুপ’।

মুদ্রা আবিষ্কারের আগের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই মানুষ পণ্য বিনিময় করত—চালের বিনিময়ে গম, মাছের বিনিময়ে সবজি। হাজার বছরের পুরোনো সেই পদ্ধতি আজ ফিরেছে ভয়ংকর রূপে।

রাখাইনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির খাদ্য ও ওষুধ নির্ভরতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তের অসাধু চক্র তৈরি করেছে এই বিনিময় বাণিজ্য। স্থানীয়ভাবে যাকে বলা হয় ‘বাংলা মাল’। রাতে সমুদ্রপথে পাচার হয় এই ‘বাংলা মাল’; ভোরের আগেই ফিরিয়ে আনা হয় মাদকভর্তি ট্রলার। নারী, শিশু ও রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হয় বহন ও খালাসে। সন্দেহ এড়াতে সাজানো হয় ‘অপহরণ নাটক’।

বিজিবি ও কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, গত ৯ মাসে দেড়শ কোটি টাকার মাদক এবং কোটি টাকার বাংলাদেশি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। শতাধিক পাচারকারী গ্রেপ্তার হলেও গভীর সমুদ্রের অন্ধকারে এখনও সক্রিয় এই ‘তিনমুখী’ সিন্ডিকেট—টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন।

জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা সরকারকে সরিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আছে আরাকান আর্মি। তবে তারা কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ থাকায় খাদ্য, পণ্য ও ওষুধের জন্য বাংলাদেশের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে সীমান্ত এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি, যাদের অনেকেই রোহিঙ্গা। চক্রে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি, মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলে।

বাংলাদেশি চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, সার, সিমেন্টসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সমুদ্রপথে পৌঁছে দেওয়া হয় রাখাইনে। বিনিময়ে আনা হয় ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ। প্রতি ২০ লাখ টাকার পণ্যের বিপরীতে মেলে অন্তত ২ কোটি টাকার মাদক।

প্রধান হটস্পট—সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ ও কক্সবাজার উপকূলের গভীর সমুদ্রপথ। ‘বাংলা মাল’-এর বিনিময়ে আনা মাদক ফিশারিঘাট দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বহনে ব্যবহার হয় নারী, শিশু ও রোহিঙ্গারা।

৩ নভেম্বর সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পরিচয় গোপন রেখে কথা হয় পাচারচক্রের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে—সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুর রশিদ ওরফে রশিদ মেম্বার। তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে রাখাইনের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। প্রথমে তরমুজ এনে ঢাকার সদরঘাটে বিক্রি করতেন। নাফ নদ পাড়ি দিয়ে যেতেনও মাঝেমধ্যে। সেখানে তার বড় একটি সিন্ডিকেট আছে বলেও জানান।

তার ভাষায়, ‘বাংলা মালের বিনিময়ে মাদক বেশি লাভজনক। ধরা পড়লেও তেমন ক্ষতি হয় না। ২০ লাখ টাকার মাল নিয়ে গেলে ২ কোটি টাকার মাদক পাওয়া যায়। তাই পাঁচটা চালানের দুই-তিনটা ধরা পড়লেও লাভ থেকে যায়।’ যদিও সরাসরি মাদক ব্যবসায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেননি, তবে বলেন, ‘আমার ট্রলার আরাকান আর্মি আটবার আটক করেছে। চারবার আমি নিজেই ছিলাম। তারা পণ্য রেখে আমাদের ছেড়ে দিয়েছে।’

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে সেন্টমার্টিনে অন্তত ৪টি পাচার পয়েন্ট চিহ্নিত হয়েছে—দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল (ছেঁড়াদ্বীপ সংলগ্ন), পশ্চিম উপকূল (ওয়েস্ট বিচ), ডাববাড়িয়া পয়েন্ট এবং উত্তর-পূর্ব কোণ।

সন্ধ্যার আলো ফুরোতেই প্রতিবেদক ছেঁড়াদ্বীপ সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে যান। রাতের অন্ধকারে মাঝারি আকারের ট্রলারগুলোতে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ ও সার লুকানো থাকে অস্থায়ী তাঁবুর নিচে। জেলেরা জানান, আলো জ্বালালে কোস্টগার্ডের নজরে পড়ে। ট্রলার থেকে মাল নামিয়ে ছোট নৌকায় তুলে নেওয়া হয়। একই পদ্ধতি চলে ডাববাড়িয়া পয়েন্ট ও ওয়েস্ট বিচেও।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫৮ কোটি ৯৭ লাখ ৮২ হাজার ১৩৬ টাকার মাদক আটক করা হয়েছে। বাংলাদেশি ২১ লাখ টাকার বেশি পণ্যও জব্দ হয়। গ্রেপ্তার হয় ৭৯ পাচারকারী, মামলা ৯৯টি।

৯ মাসে বিজিবি ১৩৯ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ টাকার ইয়াবা আটক করেছে। ৭৭ মামলায় গ্রেপ্তার ৬৬ জন। একই সময়ে ধরা পড়ে ২.৯৪৬ কেজি ক্রিস্টাল মেথ—মূল্য ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ ঘটনায় দুই মামলায় গ্রেপ্তার সাতজন। এছাড়া মদ, বিয়ার, গাঁজা, ফেনসিডিল ও হেরোইন আটক হয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার টাকার। এতে সাত মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজন।

কোস্টগার্ডের তথ্য বলছে, জুন—সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩০৪.৮৬ গ্রাম স্বর্ণ, ৫১৫ বস্তা ইউরিয়া, ১,২৮০ বস্তা সিমেন্ট ও ১১৫ টন পণ্য জব্দ করা হয়েছে। পাচারকাজে ব্যবহৃত ১৫টি বোট আটক ও ১৪ মামলায় গ্রেপ্তার ১০২ জন।

পাচারের রুটম্যাপ অনুযায়ী, আরাকান আর্মি সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপ উপকূল ব্যবহার করে মাদক পাচার চালায়। নাইকান্দিয়া ক্যাম্প থেকে গভীর সমুদ্রপথ হয়ে মাদক এনে বাংলাদেশের জলসীমার ১০–১২ নটিক্যাল মাইল দূরে পুলে রাখা হয়। সুযোগমতো ছোট ট্রলারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

চক্রে রয়েছে—আব্দুর রশিদ (ডান্ডা রশিদ), রশিদ মেম্বার, রোহিঙ্গা মোনাফ (বার্মাইয়া মোনাফ)সহ বহু স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সদস্য। শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, সাবরাং এলাকায়ও রয়েছে একাধিক ‘মূলহোতা’।

স্থানীয় গোয়েন্দাদের দাবি, অনেক সময় ট্রলার আটকের ঘটনাই সাজানো নাটক। জেলেরা স্বেচ্ছায় রাখাইনে গিয়ে অপহরণ নাটক সাজায়। আবার আরাকান আর্মির কাছে নেওয়া মাদকের টাকা না দেওয়ায় জেলেদের আটক হওয়া ঘটনাও রয়েছে।

বাংলাদেশ অংশে অন্যতম হোতা আজাদ নামের এক ব্যক্তি—আরাকান আর্মির ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এ কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফের একাধিক বোট ও জেলে ধরে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সেন্টমার্টিনের আব্দুর রশিদও আরাকান আর্মির টাকা মেরে দিয়েছেন বলে স্থানীয় জেলেদের দাবি। তার কালো রঙের বড় ট্রলারটি দেখলে আরাকান আর্মি গুলি ছুড়ত বলেও তারা জানান। সেন্টমার্টিন থেকে ৩টি ট্রলারের ১৮ জেলে ধরে নেওয়ার কারণও এটি হতে পারে।

চক্রের বড় অংশ পরিচালনা করেন মিয়ানমারের রাখাইনের ধন্যাবতী এলাকায় থাকা রফিক নামের এক ব্যক্তি। এছাড়া আবুল কালাম, গৌড়া পুতু, জুহুর আহম্মদ, সালেহ আহম্মদ, মিজান প্রমুখ জড়িত।

টেকনাফ ইউএনও শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘আটক জেলেদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। জেলেদের মিয়ানমার সীমান্তে যাওয়া থেকে বিরত থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে।’

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স। সীমান্তে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চলছে।’

খবরওয়ালা/টিএসএন