খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে খেলার ছলে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই সহোদর ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই শিশুর নাম আব্দুর রহমান (৮) ও আব্দুর রহিম (৩)। শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার ভেচকি গ্রামে এই বেদনাদায়ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অসচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর যে ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত ঘটছে, এই ঘটনাটি তারই একটি দুঃখজনক বহিঃপ্রকাশ।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, নিহত আব্দুর রহমান ও আব্দুর রহিম নামের এই দুই শিশু তাদের মায়ের সঙ্গে দূরবর্তী জেলা খাগড়াছড়ি থেকে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ভেচকি গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। নানাবাড়ির নতুন পরিবেশে এসে স্বাভাবিকভাবেই দুই ভাই বেশ আনন্দিত ছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তারা নানাবাড়ির আঙিনার পাশে অবস্থিত উন্মুক্ত স্থানে অন্যান্য দিনের মতো খেলাধুলা করছিল। তবে খেলার একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হঠাৎ করেই দুই ভাই সেখান থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। বেশ কিছু সময় ধরে তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং আশেপাশে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এরপর পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা মিলে বাড়ির চারপাশসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান শুরু করেন।
দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত বাড়ার সাথে সাথে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ নানাবাড়ির ঠিক পাশেই অবস্থিত পুকুরের ওপর গিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির ধারাবাহিকতায় ওই পুকুরের পানি থেকে দুই ভাইকে অচেতন ও ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ধারণা করা হচ্ছে, খেলার ছলে কোনো একজন পুকুরের পানিতে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে বাঁচাতে যায় অথবা অসাবধানতাবশত গভীর অন্ধকারে দুজনেই পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায়।
পুকুর থেকে দ্রুততার সাথে উদ্ধার করার পর দুই ভাইকে জীবিত পাওয়ার আশায় কোনো প্রকার বিলম্ব না করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তাদের মৃত্যু হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই ভাইকেই অফিশিয়ালি মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মতে, পানিতে ডোবার পর শিশুদের ফুসফুসে দ্রুত পানি প্রবেশ করার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গ্রামীণ জনপদে পুকুর বা জলাশয়ের চারপাশে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকা এবং সন্ধ্যার পর শিশুদের একা ছেড়ে দেওয়ার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
দুই শিশুর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ভেচকি গ্রাম এবং তাদের স্থায়ী বাসস্থান খাগড়াছড়িতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সাথে একটি পরিবার থেকে দুটি ফুটফুটে শিশুর এভাবে অকালে চলে যাওয়া গ্রামীণ এলাকায় শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকে আবারও বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। চিকিৎসকেরা এই ধরনের অপমৃত্যু রোধে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে বাড়ির আশেপাশে থাকা পুকুর বা ডোবার চারপাশ সুরক্ষিত রাখা এবং শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন।