খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে একটি চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। এই সময় পুলিশ কর্তৃক হেফাজতে নেওয়া বালি ও পাথর বহনকারী দুটি ট্রাক জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের আক্রমণে পুলিশের পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন।
তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বালি-পাথর নয়, মাটি ভর্তি ট্রাক থেকে চাঁদা দাবি করায় পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
গত রবিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনের তল্লাশি চৌকিতে এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকরা এই হামলা চালিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে বালি ও পাথর পরিবহনের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে নিয়মিত তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালে এএসআই আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে তাঁরা কর্তব্য পালনের সময় একটি ট্রাকে বালি এবং অন্যটিতে পাথর বোঝাই করে পার হচ্ছিল। পুলিশ সদস্যরা ট্রাক দুটির বালি-পাথরের বৈধ নথিপত্র দেখতে চাইলে ট্রাকচালকরা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর ‘সাদাপাথর পরিবহনের’ একটি বাসে করে ৩০-৪০ জন ব্যক্তি এসে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং ট্রাক দুটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই হামলায় ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ জানান, বালি-পাথর বোঝাই দুটি ট্রাক পুলিশ আটকে দেয়। এ সময় বালি, পাথর এবং গাড়ির বৈধ কাগজপত্র পুলিশ দেখতে চাইলে চালকরা পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তারা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমদকে খবর দেন। কিছুক্ষণ পর মাহফুজের নেতৃত্বে দুই গাড়ি শ্রমিক এসে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির তত্ত্বাবধানে এখানে চাঁদা আদায়ের জন্য তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। আমাদের একজন শ্রমিক মাটিভর্তি ট্রাক নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন পুলিশ সেটি যেতে না দিয়ে আটকে দেয়। তখন পুলিশ জানায় ৫ হাজার টাকা দিলে ট্রাক ছাড়া হবে, অন্যথায় নয়। পরে আমাদের চালক আমাকে ফোন দিলে আমরা সেখানে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি, তখন পুলিশ আমাদের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করে। সেই সুযোগে ঐ ট্রাকচালক তাঁর ট্রাক নিয়ে চলে যান।’
খবরওয়ালা/টিএসএন