খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারি নীতির কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাত এক নতুন সংকটের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ সরকার দেশীয় স্পিনিং শিল্প রক্ষার যুক্তিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে প্রদত্ত বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে কাঁচামাল সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বিকেএমইএ যৌথভাবে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সংগঠনগুলো প্রয়োজন হলে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করার ইঙ্গিতও দিয়েছে।
পোশাক খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, হঠাৎ করে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করলে কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা তৈরি হবে, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রপ্তানি আয়ও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন কাউন্টের সুতায় বন্ড সুবিধার কারণে আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে আমদানিকৃত সুতা স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে, ফলে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিম্নের টেবিলটি ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানির সাম্প্রতিক অবস্থা দেখাচ্ছে:
| অর্থবছর | আমদানি (মেট্রিক টন) | মূল্য (কোটি টাকা) |
|---|---|---|
| ২০২২-২৩ | ৩৬,০০০ | ১,৪৮০ |
| ২০২৩-২৪ | ৪১,০০০ | ২,২০০ |
| ২০২৫-২৬ (চলতি) | আনুমানিক ৪৫,০০০ | আনুমানিক ২,৫০০ |
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার কারণে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো বর্তমানে মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে, আর অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পোশাক শিল্পের নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, নিট ও ওভেন খাতের উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং কাঁচামাল সংকটের ফলে রপ্তানির সময়সূচি দীর্ঘ হবে। বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীম বলেন, “সরকারের এই সিদ্ধান্ত তৈরি পোশাক শিল্প ও স্পিনিং শিল্পের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে এবং রপ্তানিতে বড় ধরনের বাধা তৈরি করবে।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটালে বিদেশি বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা সীমিত হবে। এজন্য দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হয়।