খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে মাঘ ১৪৩২ | ১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সহগলপুর গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়ির সামনে রাখা দুটি ককটেল ও চাঁদা দাবি সংবলিত একটি চিরকুট পুলিশ উদ্ধার করেছে। চিরকুটে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে এবং তা না দিলে প্রবাসী ব্যক্তি ও তার সম্পত্তি ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিঠুন হোসেন নামের ওই ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তিনি তার নিজ গ্রামে একটি বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন। রোববার ভোরে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির গেটের সামনে দুটি ককটেল ও একটি চিরকুট দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ গাংনী থানায় খবর দেন।
চিরকুটে লেখা ছিল,
“শ্রদ্ধেয় মামা, সালাম নিবেন। আশা করি ভালোই আছো। বিল্ডিং অনেক সুন্দর হয়েছে, অনেক টাকা খরচ তাই না। এলাকার বড় ভাইদের মিষ্টি দিলেন না, তাই আমরা স্পেশাল মিষ্টি পাঠালাম। আমাদের মিষ্টি খাওয়ার জন্য এই নম্বরে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেবেন। টাকা না দিলে ছেলে ও বিল্ডিং দুটোই হারাবেন।”
ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাংনী থানার ধলা পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল লাল স্কচটেপে মোড়ানো দুটি ককটেল ও চিরকুট উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ককটেল দুটি নিরাপত্তার স্বার্থে পানি ও বালুভর্তি পাত্রে রাখা হয় এবং থানায় নিয়ে আসা হয়।
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক বিষয় অবিলম্বে থানায় জানাতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সহগলপুর গ্রামে এই ধরনের ঘটনা বিরল। সম্প্রতি এলাকার অন্যান্য প্রবাসীদের বাড়িতেও নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
এ বিষয়ে সংক্ষেপে তথ্য দেখানো হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | সহগলপুর গ্রাম, গাংনী উপজেলা, মেহেরপুর |
| আক্রান্ত ব্যক্তি | মিঠুন হোসেন, সিঙ্গাপুর প্রবাসী |
| উদ্ধারকৃত সামগ্রী | ২টি ককটেল, ১টি চিরকুট |
| চাঁদা দাবি | ১,৫০,০০০ টাকা |
| হুমকির ধরন | প্রাণনাশ ও সম্পত্তি ধ্বংসের হুমকি |
| পুলিশ পদক্ষেপ | উদ্ধারকৃত সামগ্রী থানায় সংরক্ষণ, তদন্ত চলছে |
| পুলিশ কর্মকর্তা | ওসি উত্তম কুমার দাস |
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে স্থানীয় সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয়তা থাকতে পারে। তাই প্রবাসী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।