খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০২৫
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি সামাজিক সংগঠনের আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে জায়গা না পেয়ে বিএনপি নেতারা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার ওপর চড়াও হন। এতে অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যা পরে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাতরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ‘সৎসংঘ সামাজিক উন্নয়ন সোসাইটি’।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানে ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফ হোসেনকে মঞ্চে বসানো হয়। সেখানে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও ছিলেন। কিন্তু মঞ্চে বিএনপি নেতাদের জায়গা না দিয়ে সামনের সারিতে বসানো হয়। এতে তারা অপমানবোধ করে ক্ষুব্ধ হন এবং এক পর্যায়ে আশরাফ হোসেনের ওপর চড়াও হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান ওরফে সাঈদ মুন্সী, ভাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ওরফে পান্না, চুমুরদি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফর শেখ এবং আজিমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজ মাতুব্বর। চড়াও হওয়ার নেতৃত্ব দেন আইয়ুব মোল্লা।
আইয়ুব মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ইউএনও এনসিপির ওই নেতাকে নিয়ে নিজের গাড়িতে চড়িয়ে ঘুরিয়ে বেড়ান ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়ে যান, যা স্থানীয়দের কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপি নেতাকে রক্ষা করতে গিয়ে ইউএনওকেও বিএনপির কর্মীদের তোপের মুখে পড়তে হয়। খবর পেয়ে কাছাকাছি রাজনৈতিক সভায় থাকা কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়।
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোর্তজা বলেন, এটি সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এনসিপির নেতা কবে মঞ্চে উঠেছেন, তিনি জানেন না। বিতর্ক ওঠায় তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান।
ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন জানান, কিছু ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছিল, পরে সমাধান হয়। এনসিপি নেতা আশরাফ হোসেন বলেন, বিএনপির কর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করলে ইউএনও তাকে রক্ষা করেন এবং শহীদুল ইসলাম এসে যারা চড়াও হয়েছিলেন, তাদের দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করান। তিনি নিজেও দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভাঙ্গার ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, এনসিপির আহ্বায়ক মঞ্চে বসায় বিএনপির নেতারা ক্ষুব্ধ হন। পরে শহীদুল ইসলাম ও খন্দকার ইকবালের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন