খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফরিদপুর-৩ সংসদীয় আসন দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে শহরের ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিল পরিবারের প্রার্থী থাকলে বিএনপির জয় প্রায় নিশ্চিত ধরা হয়। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক এবং ময়েজ মঞ্জিল পরিবারের প্রার্থী—উভয়ই বিএনপির পক্ষে থাকলেও, প্রার্থী নায়াব ইউসুফকে জয়ের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি বিজয়ী হলেও জামায়াতের প্রার্থী আবদুত তাওয়াবের ভোট সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে বেড়েছে। পূর্বের নির্বাচনে যেখানে জামায়াত ৩০ হাজারের বেশি ভোট পায়নি, সেখানে এবার তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট। বিজয়ী নায়াব ইউসুফের ভোটের সঙ্গে তার ব্যবধান মাত্র ২৪ হাজার ৪৩০ ভোট।
১৯৯১ সাল থেকে ফরিদপুর-৩ আসনে জামায়াতের ভোটের ইতিহাস ও বিএনপির ফলাফল নিম্নরূপঃ
| নির্বাচন সাল | বিএনপি প্রার্থী | বিএনপি ভোট | জামায়াত প্রার্থী | জামায়াত ভোট | অন্যান্য প্রার্থী | ভোট |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১৯৯১ | চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ | ৬২,৪৩২ | আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ | ১৬,৫০২ | – | – |
| ১৯৯৬ (১২ জুন) | চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ | ৬০,৭৭৯ | আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ | ১২,৩৩৪ | – | – |
| ২০০১ | চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ (বিএনপি-জোট) | নির্বাচিত | – | – | – | – |
| ২০০৮ | চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ (স্বতন্ত্র) | ৭৬,৪৭৮ | আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (জোট) | ৩০,৮২১ | আওয়ামী লীগ প্রার্থী খন্দকার মোশাররফ হোসেন | ১,২২,০৪৭ |
নায়াব ইউসুফ রাজনৈতিক পরিবারভিত্তিক, তার দাদা ইউসুফ আলী চৌধুরীকে স্থানীয় রাজনীতিতে ‘কিং মেকার’ বলা হয়। বাবা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ফরিদপুরে বিএনপির সংগঠন গড়ে তুলেছেন এবং পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের পর নায়াব ইউসুফ বলেছেন, “জামায়াত প্রার্থী এত ভোট কীভাবে পেল, তা আমাদের জন্য বিস্ময়। ভোটের বিশ্লেষণ করে কারণ খুঁজে বের করতে হবে।”
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন জানান, “যত ভালো ফল আশা করা হচ্ছিল, তা আমরা করতে পারিনি। কেন্দ্রভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্বলতা চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নির্বাচনে জামায়াত ফরিদপুর-১ ও ফরিদপুর-৩ আসনকে লক্ষ্য করেছিল। ফরিদপুর-১ আসনে তারা বিজয়ী হলেও ফরিদপুর-৩-এ জয় অধরা থেকে যায়। ১১–দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এই দুই আসনে একক প্রার্থী ছিলেন জামায়াতের। দলটির আমির শফিকুর রহমান বিশেষভাবে এই আসনগুলিতে জনসভা করেছেন।
আবদুত তাওয়াব কলেজ শিক্ষক ও কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, “প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং ভোটারদের স্বাধীন পছন্দের কারণে ভোট বাড়েছে। তবে আওয়ামী লীগের কিছু অংশ বিএনপির সঙ্গে একাত্ম হওয়ায় বিজয় সম্ভব হয়নি।”
ফরিদপুর-৩ আসনে এই ফলাফল প্রমাণ করছে যে ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিতেও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল দলীয় প্রতীক বা পরিচিতি দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না; স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রার্থী-ভিত্তিক কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ।
এইভাবে ফরিদপুর-৩ আসন দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনশীল ভোটের ধারা এবং জোটভিত্তিক রাজনৈতিক কৌশলের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।