খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বর্তমান সময়ে ফেসবুক কেবল বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং তরুণদের জন্য আয়ের বড় একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ভিডিও কনটেন্ট, লাইভ স্ট্রিম কিংবা পেজ মনিটাইজেশনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অনেকেই।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত জনপ্রিয়তা ও আয়ের লোভ অনেক তরুণকে তাদের ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।
ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি মানুষ ফেসবুকে সক্রিয়। এর মধ্যে অন্তত ১২ লাখ তরুণ নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করে মনিটাইজেশনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাদের একটি বড় অংশ মূলত ভিউ ও লাইক বাড়ানোর দিকে মনোযোগী। মানসম্মত বা শিক্ষামূলক কনটেন্টের বদলে এখন ট্রেন্ডি ও বিতর্কিত বিষয়বস্তুই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয় এক কলেজছাত্র আশিক রহমান (ছদ্মনাম) জানান, “প্রথমে পড়াশোনার পাশাপাশি ভিডিও বানাতাম। এখন কেবল ট্রেন্ডি কনটেন্টে সময় দিচ্ছি। কারণ ভিউ আর আয়ের চাপ অনেক। মাঝে মাঝে মনে হয় নিজেকে হারিয়ে ফেলছি।”
জনতা মহাবিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা খাতুন বলেন, “ফেসবুকের ভার্চুয়াল জনপ্রিয়তার নেশা তরুণদের মানসিক চাপ ও হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ‘লাইক’, ‘শেয়ার’ আর ‘ইনকাম’-এর হিসাব করতে করতে তারা বাস্তব জীবন থেকে সরে যাচ্ছে। এতে আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।”
সম্প্রতি রাজশাহীতে এক তরুণ দর্শক টানার জন্য ফেসবুক লাইভে বিতর্কিত ও অশ্লীল কনটেন্ট প্রচার করেন। পরে পরিবার ও সমাজের তীব্র চাপে তিনি কনটেন্ট তৈরি বন্ধ করতে বাধ্য হন। এ ঘটনাকে স্থানীয় সমাজকর্মীরা তরুণ সমাজের জন্য এক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
সমাজবিজ্ঞানী ড. শহীদুল ইসলাম মনে করেন, “ফেসবুক মনিটাইজেশন অবশ্যই একটি ইতিবাচক সুযোগ। তবে এর সঠিক ব্যবহার না হলে তরুণরা অর্থ ও খ্যাতির মোহে নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক মূল্যবোধ হারাবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এখন জরুরি।”
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মনিটাইজেশনের সুযোগকে শিক্ষামূলক, তথ্যসমৃদ্ধ, সংস্কৃতিমূলক বা সমাজকল্যাণমূলক কাজে কাজে লাগাতে হবে। অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্ব রক্ষা করেই প্রকৃত সাফল্য পাওয়া সম্ভব।