খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ে গতকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হঠাৎ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দীর্ঘ সময় তালাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত থাকা এই কার্যালয়ে প্রায় দেড় বছর পর এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রহস্য দানা বেঁধেছে।
স্থানীয় ও ব্যবসায়িক সূত্র থেকে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাতমাথা সংলগ্ন টেম্পল রোডের ওই ভবনের দোতলায় একটি প্লাস্টিকের পাইপের মাথায় জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়। ভবনটির এই অংশে আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং তার ঠিক পাশেই ছাত্র ইউনিয়নের জেলা কমিটির কার্যালয় অবস্থিত। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পতাকাটি সেখানে উড়তে দেখা গেলেও রাত সাড়ে ৮টার মধ্যেই তা আবার সরিয়ে ফেলা হয়। তবে কারা, কখন এই পতাকা উত্তোলন করেছে এবং পরবর্তীতে কারা তা নামিয়ে ফেলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ভবনটির পাশেই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বগুড়া জেলা শাখার কার্যালয়। সিপিবির জেলা সভাপতি আমিনুল ফরিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সকালে আমাদের দলীয় কর্মসূচি ছিল এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত আমরা অফিসেই অবস্থান করছিলাম। তখন পর্যন্ত সেখানে কোনো পতাকা আমাদের নজরে আসেনি। তবে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এসে দেখি পতাকা লাগানো হয়েছে। আমাদের ধারণা, সবার অগোচরে কেউ এটি লাগিয়ে দ্রুত সটকে পড়েছে।”
পতাকা উত্তোলনের কিছু সময় পর আওয়ামী লীগের বগুড়া জেলা শাখার ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট দিয়ে এই ঘটনার দায় স্বীকার করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয় যে, দলীয় নেতাকর্মীরাই কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। সেখানে লেখা হয়, “বগুড়া জেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। আমাদের কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না।” এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা নিচে তুলে ধরা হলো:
| সময় | ঘটনার বিবরণ | মন্তব্য |
| সকাল ১০টা – বিকেল ৪টা | সিপিবির কর্মসূচি চলছিল। | তখন পর্যন্ত কোনো পতাকা দেখা যায়নি। |
| বিকেল ৪:৩০ মিনিট | পতাকা প্রথম দৃশ্যমান হয়। | স্থানীয়রা প্লাস্টিকের পাইপে পতাকা উড়তে দেখেন। |
| সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট | ফেসবুকে ছবি ও পোস্ট। | দলীয় পেজ থেকে দায় স্বীকার করা হয়। |
| রাত ৮:৩০ মিনিট | পতাকা সরিয়ে ফেলা হয়। | কে বা কারা সরিয়েছে তা এখনো অস্পষ্ট। |
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) মো. আতাউর রহমান জানিয়েছেন, পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পুলিশের জানা ছিল না। খবর পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর এই ধরনের প্রতীকী পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠনের তৃণমূল কর্মীরা তাদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে জনাকীর্ণ সাতমাথা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এমন রহস্যময় কর্মকাণ্ডে সাধারণ ব্যবসায়ীরা কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছেন। তারা মনে করছেন, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক তৎপরতা শহরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।