খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
বগুড়া জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি ডা. সামির হোসেন মিশুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জড়িয়ে তাঁকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ধুনট মোড় এলাকার ‘হোটেল মকটেল’ থেকে তাঁকে প্রথমে আটক এবং পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, ডা. সামির হোসেন মিশু তাঁর এক চিকিৎসক বন্ধু ডা. স্বপনের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মঙ্গলবার রাতে শেরপুরের হোটেল মকটেলে যান। সেখানে তাঁর উপস্থিতির খবরটি জানাজানি হলে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এবং তাঁর নিরাপত্তার স্বার্থে শেরপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে, বগুড়া সদর থানায় দায়েরকৃত জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ডা. সামির হোসেন মিশু বগুড়া শহরের অভিজাত জলেশ্বরীতলা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বগুড়ার বিশিষ্ট ও প্রয়াত চিকিৎসক ডা. সাফদার হোসেনের সন্তান। পেশাগত জীবনে তিনি দীর্ঘ সময় সুনামের সাথে বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, চিকিৎসকদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন স্বাচিপ এবং আওয়ামী পন্থী সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনে তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল।
বর্তমানে তিনি বাগেরহাট সরকারি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) ইন্সট্রাক্টর এবং একই সাথে বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকায় সাধারণ ও দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবেও বেশ সমাদৃত।
ডা. মিশুর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন সংবাদমাধ্যমকে জানান, বগুড়া সদর থানায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলার আসামি হিসেবে ডা. মিশুর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। শেরপুর থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রাতেই তাঁকে বগুড়া সদর থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আদালতের মাধ্যমে তাঁকে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, তা সদর থানা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় বগুড়ার চিকিৎসক সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।