বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন প্রতিনিয়ত প্রভাবিত হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, প্রবাসী আয় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের কারণে দেশের মুদ্রা বাজারে প্রতিদিনই বিভিন্ন মুদ্রার বিনিময় হারে ওঠানামা দেখা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী আজ (২৩ জুন ২০২৬) দেশের বাজারে প্রধান বৈদেশিক মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো।
| মুদ্রার নাম | বাংলাদেশি টাকা |
|---|---|
| ইউএস ডলার | ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা |
| ইউরো | ১৩৯ টাকা ৭০ পয়সা |
| পাউন্ড | ১৬২ টাকা ০৬ পয়সা |
| কানাডিয়ান ডলার | ৮৬ টাকা ৩৫ পয়সা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৪ টাকা ৮৬ পয়সা |
| চাইনিজ ইয়েন | ১৮ টাকা ০৬ পয়সা |
| সিঙ্গাপুরি ডলার | ৯৪ টাকা ৬৪ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ২৯ পয়সা |
| মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত | ২৯ টাকা ৭৩ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল | ৩২ টাকা ৭৮ পয়সা |
| কাতারি রিয়াল | ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার | ৩৯৮ টাকা ১৮ পয়সা |
| আরব আমিরাতের দিরহাম | ৩৩ টাকা ৫২ পয়সা |
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি এবং প্রবাসী আয়ের স্থিতিশীল প্রবাহের কারণে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করছে, যা বাজারে এক ধরনের স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, আমদানি নির্ভর খাতগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কিছু মুদ্রার ক্ষেত্রে চাপ থাকলেও সামগ্রিকভাবে বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রবাসী আয় অব্যাহত থাকলে এবং রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকলে আগামী দিনগুলোতে বিনিময় হার আরও ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মুদ্রার এই ওঠানামা ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও সাধারণ ভোক্তাদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।



