খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
শনিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২৩-২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করবেন এবং এই জোড়া সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ ২৭ থেকে ২৮ জনের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদল থাকছে।
সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত বৈঠক এবং পরবর্তীতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনার বিষয়: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, জনযোগাযোগ, মালয়েশিয়ায় নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন।
সম্ভাব্য চুক্তি: সংস্কৃতি বিনিময় এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে দুটি দলিল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভা ‘সামার দাভোস’-এ অংশ নেবেন।
মঙ্গলবার: ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং সম্মেলন শেষে কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বিকালে ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন এবং সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের স্বাগত নৈশভোজে অংশ নেবেন।
বুধবার: সামার দাভোসের মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর দুপুরে ট্রেনে বেইজিং রওনা হবেন।
বৃহস্পতিবার: চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক। দুপুরে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ সম্মেলনে বক্তব্য এবং বিকালে গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সই।
শুক্রবার (শেষ দিন): চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এরপর তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
সম্ভাব্য চুক্তি ও আলোচনা: চীন সফরে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সই হতে পারে (যার মধ্যে ১৩টি এমওইউ, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা ও একটি প্রটোকল রয়েছে)। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে জানান, বিগত সরকারের অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন। নেপালসহ অন্য ১৪টি দেশের মতো ব্যক্তি প্রাধান্য না দিয়ে দেশের স্বার্থে সমান নিয়ম চালুর দাবি জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. এম শাহিদুজ্জামান মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই জোড়া সফর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাস্তব পরিবর্তন আনবে, যা বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘদিনের ভারতীয় প্রভাব কমিয়ে দেবে। চীনের সামরিক সহায়তা ও বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে এবং ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্র্যাটেজির পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রও এতে আপত্তি করবে না।