খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
বগুড়ায় নিজ বাড়িতে দাদী শাশুড়ি ও তার নাতি বউকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
একই ঘটনায় আহত হয়েছে পরিবারের এক কিশোরী সদস্য। বুধবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে আটটা থেকে ৯টার মধ্যে বগুড়া পৌর এলাকার ইসলামপুর (হরিগাড়ি) পশ্চিম পাড়ায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
নিহতরা হলেন—ইসলামপুর হরিগাড়ি এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুস বুলুর স্ত্রী লাইলী বেওয়া (৮০) এবং তার নাতি পারভেজ ইসলামের স্ত্রী হাবিবা ইয়াসমিন (২১)। এসময় ছুরিকাহত হন পারভেজের ছোট বোন বন্যা খাতুন (১৫), যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতদের স্বজনরা প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় বাসিন্দা সোহেলের ছেলে সৈকত ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। বন্যার সাবেক প্রেমিক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর থেকে সৈকত ক্ষিপ্ত ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহত হাবিবার স্বামী পারভেজ ও ছোট ভাই কৌশিক ঘটনার সময় বাড়ির বাইরে ছিলেন। বন্যার বাবা বাড়ির পাশে তার দোকানে অবস্থান করছিলেন স্ত্রীকে নিয়ে। ফলে ঘরে কেবল বৃদ্ধা লাইলী বেওয়া, হাবিবা, বন্যা এবং হাবিবার সাত মাস বয়সী শিশু সন্তান ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, বন্যা পেটে ছুরিকাহত অবস্থায় চিৎকার দিয়ে ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘটনাস্থলে গিয়ে বারান্দায় হাবিবার গলাকাটা লাশ এবং ঘরের ভেতরে লাইলী বেওয়ার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পাশে কাঁদছিল হাবিবার সাত মাস বয়সী শিশু সন্তান। প্রতিবেশীরা দ্রুত আহত বন্যাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বন্যার ফুপাতো ভাই খোকন মিয়া বলেন, “সৈকত প্রায়ই বন্যাকে বিরক্ত করতো। বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে পুরুষ কেউ না থাকার সুযোগে সৈকতসহ ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢোকে। হাবিবা তাদের দেখে প্রতিবাদ করলে তাকে প্রথমে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে লাইলী বেওয়াকেও হত্যা করে তারা। বন্যা বাধা দিতে গেলে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।”
বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, “ছুরিকাহত অবস্থায় বন্যা সৈকতের নাম পুলিশকে জানিয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুলিশের একাধিক দল অভিযুক্ত সৈকতকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের পরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও মাঠে নেমেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/আশ