খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট ২০২৫
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের হ্যাঙ্গার থেকে ১০টি উড়োজাহাজের চাকা রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই চাকার কিছু অংশ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কাছে সরবরাহের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হাই সিকিউরিটি হ্যাঙ্গার এলাকার গোডাউন থেকে চাকা নিখোঁজ হয়। প্রতিটি চাকার বাজারমূল্য ১৫-২৫ হাজার মার্কিন ডলার। তদন্তে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুজন কর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, “চাকা এক্সচেঞ্জ” নামে চালানো হলেও বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে চুরি। বিমান বাংলাদেশের নতুন ও কার্যকর চাকার বদলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পুরনো চাকা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন থানায় দায়ের করা জিডিতে লিখেছেন, হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশের অকশন শেড থেকে ১০টি ‘আনসার্ভিসেবল টায়ার’ খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বিমানের স্টোরের দুজন কর্মী অনুমতি ছাড়াই ইউএস-বাংলার এজিএম শফিকুল ইসলামের কাছে চাকা সরবরাহ করেছেন।
তবে জিডিতে ‘চুরি’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি; বরং ‘নিখোঁজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাই সিকিউরিটি এলাকায় অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া প্রবেশের সুযোগ নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়ী করা হচ্ছে।
বিমানের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক এবিএম রওশন কবীর বলেছেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে ইউএস-বাংলার জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমাদের কাছে কোনো চাকা আসেনি। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে আমরা পদক্ষেপ নেব।’
পুলিশও জানিয়েছে, ইউএস-বাংলার সঙ্গে অনুমতি ছাড়া চাকা অদলবদলের অভিযোগে জিডি হয়েছে, তদন্ত চলছে।
প্রতিটি চাকার দাম ১৫-২০ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দুই থেকে তিন কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মীর কারণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শুধু চাকা নয়, গত এক মাসে বিমানের বোয়িং উড়োজাহাজে অন্তত আটবার যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে চাকা ফেটে যাওয়া, যান্ত্রিক গোলযোগ, টয়লেট ফ্লাশ নষ্টসহ নানা কারণে একাধিক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমান কর্তৃপক্ষ নতুন টায়ার ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার ডেকেছে। পাশাপাশি সব কারিগরি ত্রুটি পর্যালোচনায় চার সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিমানের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘যাত্রীসুরক্ষা ও সেবার মান রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড