খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনার মাত্র এক দিন পর তাঁর ছোট ভাইয়ের ওপরও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরপর দুই দিনের এই সহিংসতায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত দুই ভাই বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর প্রায় দুইটার দিকে বাগাতিপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুনিপাড়া এলাকার একটি মসজিদের ইমাম আবুল খায়ের জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখম রয়েছে।
এই ঘটনার পরদিন শনিবার রাত প্রায় আটটার দিকে একই পরিবারের আরেক সদস্য, আবুল খায়েরের ছোট ভাই ইয়াকুব আলীর ওপরও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াকুব আলী রাস্তায় চলাচলের সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এতে তিনিও গুরুতরভাবে আহত হন।
স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
আহত ইয়াকুব আলীর অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে মিরাজ, তাঁর ছেলে মেহেদী এবং সাইফুলসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই ব্যক্তিরা আগের দিন তাঁর বড় ভাই আবুল খায়েরের ওপর হামলায়ও জড়িত ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল কর্মকর্তা সজিবুর রহমান জানান, গুরুতর জখম হওয়ায় ইয়াকুব আলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
অন্যদিকে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পূর্বশত্রুতার বিষয়টি সামনে এসেছে। ইতিমধ্যে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পরপর দুই দিনের এই সহিংস ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | টুনিপাড়া, বাগাতিপাড়া, নাটোর |
| প্রথম হামলার শিকার | ইমাম আবুল খায়ের |
| দ্বিতীয় হামলার শিকার | ইয়াকুব আলী |
| প্রথম হামলার সময় | শুক্রবার, দুপুর প্রায় ২টা |
| দ্বিতীয় হামলার সময় | শনিবার, রাত প্রায় ৮টা |
| চিকিৎসা স্থান | রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| সম্ভাব্য কারণ | পূর্বশত্রুতা |
| গ্রেপ্তার | ১ জন |