খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বড় ধাক্কা হয়ে গেল। ২৭ মার্চ কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বহুল প্রতীক্ষিত ‘লা ফিনালিসিমা’—যেখানে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, এবং স্পেন, ইউরোপীয় শীর্ষস্থানীয় দল ও ইউরো বিজয়ী। এক পাশে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্য পাশে নতুন প্রজন্মের তারকা লামিনে ইয়ামাল—কিন্তু এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠে আর ঘটছে না।
আজ ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ফাইনালিসিমা আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ভেন্যু এবং সময় নিয়ে আর্জেন্টিনার সঙ্গে কোন সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
ফিনালিসিমা মূলত কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন দলের মধ্যে খেলার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ইতালিকে পরাজিত করে প্রথমবার এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল। এবারও একই উত্তেজনা এবং অপেক্ষার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু রাজনীতি ও সংঘাত এই লড়াইকে স্থগিত করল।
উয়েফা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, “দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির কারণে আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফির জন্য লড়াই করার সুযোগ না দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
উয়েফার প্রস্তাবিত বিকল্পগুলো ছিল:
| প্রস্তাবিত ব্যবস্থা | স্থান | তারিখ | আর্জেন্টিনার প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|---|
| কাতারের মূল ফাইনাল | কাতার | ২৭ মার্চ | অনিশ্চিত |
| একক ম্যাচ ইউরোপে | মাদ্রিদ, বার্নাব্যু | নির্ধারিত | অস্বীকার |
| দুই লেগের হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে | মাদ্রিদ ও বুয়েনস এইরেস | ২০২৮ সালের আগে | অস্বীকার |
| নিরপেক্ষ ইউরোপীয় ভেন্যু | ইউরোপ | ২৭ বা ৩০ মার্চ | অনিশ্চিত |
| একক ম্যাচ ৩১ মার্চ | ইউরোপ | ৩১ মার্চ | আর্জেন্টিনা অনুরোধ |
উপরের প্রস্তাবের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব হয়নি। আর্জেন্টিনা শুধুমাত্র ৩১ মার্চ খেলার জন্য প্রস্তুত থাকায়, উয়েফা আর নতুন কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারেনি।
ফলে, বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি বাতিল হয়ে গিয়ে ফুটবল বিশ্বে হতাশার ছাপ ফেলেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে এটি একটি বিরল ও দুঃখজনক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড়দের সম্ভাব্য উত্সাহ এবং ভক্তদের উত্তেজনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়েছে।
এদিকে, ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সমস্যা ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক খেলার পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
ফুটবলপ্রেমীরা এখন শুধু আশা করতে পারেন, পরবর্তী বছর বা ২০২৮ সালের ইউরো ও কোপা আমেরিকার আগে এই ফাইনালিসিমার একটি নতুন সংস্করণ দেখা যাবে।