খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৩ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকার পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠান মেডলগ এসএ-কে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা এই দায়িত্ব প্রদানে শর্ত ও নিয়ম মেনে চলেননি এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বঞ্চিত করেছেন। একাধিক দেশীয় কোম্পানি দাবী করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তটি একটি অস্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক মাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা আন্তর্জাতিকভাবে খোলামেলা দরপত্র আহ্বান না করে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক মেডলগ এসএ নামের কোম্পানির পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে তাদের নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট থাকারও অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, পানগাঁও বন্দরটি দেশের প্রথম নদীভিত্তিক কন্টেইনার টার্মিনাল, যা ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত। তবে বন্দরটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম বন্দর এবং শুল্ক বিভাগের অদক্ষতার কারণে এটি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। সম্প্রতি টেন্ডারের মাধ্যমে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বন্দরটির দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা নিয়ে দেশীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়া চলাকালে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও, সেটি ঠিকমতো অনুসৃত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান এই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করলেও, পরবর্তীতে শুধুমাত্র একটি বিদেশি কোম্পানি, মেডলগ এসএ-কে কাজ দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে যে, বিভিন্ন পত্রিকায় বিদেশি কোম্পানির নাম প্রচারিত হওয়া সত্ত্বেও, প্রকৃতপক্ষে সেই কোম্পানি টেন্ডারে অংশ নেয়নি। শুধু একটি শাখা, মেডলগ এসএ অংশ নিয়েছে, যাদের নদীভিত্তিক কন্টেইনার টার্মিনালের কার্যক্রমে তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
এছাড়া, টেন্ডার চলাকালে পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) অনুযায়ী অন্যান্য কোম্পানিকে সুযোগ দেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তাড়াহুড়োর কারণে পিপিআর অমান্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ৬ নভেম্বর টেন্ডারের টেকনিক্যাল ইভালুয়েশন এবং ৯ নভেম্বর ফিন্যান্সিয়াল ইভালুয়েশন দ্রুত সম্পন্ন করা হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে দেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা দক্ষতার সঙ্গে পানগাঁও টার্মিনাল পরিচালনা করতে সক্ষম। কিন্তু বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বরত করে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দলের নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানকেও বঞ্চিত করা হয়েছে, যার মালিকানা রয়েছে একটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোটস এসোসিয়েশনের (বিআইসিডিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন সেলিম মন্তব্য করেছেন, “এটা দেশদ্রোহিতা ছাড়া আর কিছু নয়। একটি দেশীয় মাফিয়া চক্র বিদেশিদের হাতে বন্দরগুলো তুলে দিচ্ছে, যা সরকারের জন্য ক্ষতিকর।”
অন্যদিকে, বিজিএমইএ সদস্য আবদুল মাহবুব চৌধুরী বলেছেন, “এখন কেন বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দিতে হবে? এটা ধ্বংস ছাড়া আর কিছু নয়।”
এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।