খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফিফাকে পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাওলো জাম্পোলি বলেন, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিশ্বকাপে খেলার পূর্ণ যোগ্যতা রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এই আসরে ‘আজুরি’দের অংশগ্রহণ দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হবে।
জাম্পোলি ট্রাম্প প্রশাসনের গ্লোবাল পার্টনারশিপ-বিষয়ক দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি ফুটবল সংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই। তিনি একজন ইতালীয়-আমেরিকান নাগরিক।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে আরও জানা যায়, গত মার্চে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় ইতালি। এই ব্যর্থতার পর তাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটও বিষয়টিকে প্রভাবিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে স্থানান্তরের জন্য ফিফার কাছে একাধিকবার আবেদন জানায়। একই সঙ্গে ভেন্যু পরিবর্তন না হলে বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকিও দেয় দেশটি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাওলো জাম্পোলির প্রস্তাব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে ইতালির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি একে অসম্ভব এবং অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকারলো জিওরগেত্তি এই প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন এবং এর তীব্র সমালোচনা করেন।
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত মাসে তুরস্কে ইরান দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় জানান, বিশ্বকাপের সব ম্যাচ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি এই নির্দিষ্ট প্রস্তাব সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে হোয়াইট হাউস বা ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান, ইতালি এবং ফিফা—তিন পক্ষের অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে কূটনৈতিক ও ক্রীড়া রাজনীতির সংযোগকে আরও স্পষ্ট করেছে।