খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
৪৯তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিলো না। এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেক পরীক্ষার্থী। বিসিএস পরীক্ষার ইতিহাসে এধরণের ঘটনা অতীতে ঘটেছে কিনা পরীক্ষার্থীদের জানা নেই। অনেক পরীক্ষার্থীই মনে করছেন প্রশ্নপত্র তৈরিতে স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। না হলে এমন হবার কথা নয়।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের জন্য ১০০ নম্বরের এমসিকিউধর্মী আবশ্যিক প্রশ্ন ও ১০০ নম্বরের বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন ছিল।
পরীক্ষার্থীরা জানান, আবশ্যিক প্রশ্নের মধ্যে সমকালীন ও ঐতিহাসিক নানা প্রসঙ্গ থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ অনুপস্থিত ছিল পুরোপুরি। বরং প্রশ্নে উঠে এসেছে আয়নাঘর এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে নিয়ে প্রশ্ন। আরও একটি প্রশ্নে ছিল, ‘চব্বিশের আন্দোলনের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের অন্যতম প্রস্তাব কী?’
আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গেও এসেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনা। এক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার পাকিস্তানের কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অপর এক প্রশ্নে ছিল পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন।
বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত প্রশ্নও ছিল পরীক্ষায়। প্রশ্নে বলা হয়, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন তমদ্দুন মজলিস। তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?”
বাংলা ভাষা বিষয়ক অংশে একটি ব্যাকরণ প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়—‘স্বাধীন’ শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
তবে অনেকেই বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মতো জাতীয় ইতিহাসের মূল অধ্যায় বাদ পড়া বিসিএস পরীক্ষার জন্য এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড